চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা আয়তনে ছোট হলেও অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে অনেক বড়। নবগঠিত এ উপজেলা কর্ণফুলী নদীবেষ্টিত। কাঁচামাল ও যাতায়াত সুবিধার কারণে এখানে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু এসব শিল্প-কারখানায় নেই যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকলেও, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে অগ্নিঝুঁকি নিয়েই চলছে কর্ণফুলী উপজেলার শিল্প-কারখানার কার্যক্রম।
এ উপজেলায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্প-কারখানা থেকে উৎপাদিত পণ্য সারা দেশে রপ্তানি হচ্ছে প্রতিদিন। এসব শিল্প-কারখানার অগ্নিনিরাপত্তার জন্য সরকধারিভাবে কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় কারখানার মালিকদেরও রয়েছে আক্ষেপ। উপজেলায় অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটলে চট্টগ্রাম নগরীর ফায়ার স্টেশন থেকে সহায়তা নেওয়া হয়।
উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে ছোট-বড় দেশি-বিদেশি অর্ধশতাধিক শিল্প-কারখানা রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলায় রয়েছে কোরিয়ান ইপিজেড। উপজেলার শিল্প-কারখানা থেকে প্রতি বছর কোটি টাকার রাজস্ব জাতীয় অর্থনীতি যোগ হলেও, কারখানার অগ্নিনিরাপত্তার জন্য ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় কারখানার মালিকরা হতাশ।
শিকলবাহা ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই ইউনিয়নে ১০টির অধিক গুরুত্বপূর্ণ শিল্প-কারখানা রয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় এসব কারখানায় কোনো অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটলে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই সব পুড়ে যায়। কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ফারুক চৌধুরী বলেন, ভূমিমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় উপজেলায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অনুমোদন হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ সামশুল তাবরীজ বলেন, উপজেলায় নতুন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের চিঠি হাতে পেলে প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।
এ ব্যাপারে ফোনে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক কামাল উদ্দিন ‘মিটিংয়ে আছি’ বলে লাইন কেটে দেন। পরে মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।