চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানিকগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় রুবেল ওরফে রোমেল (৩০) নামে এক দপ্তরিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে ঝালকাঠিতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় এমরান (২৮) নামের যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা : গত বুধবারের এ ঘটনার পর থেকেই পলাতক পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সী সন্দেহভাজন
আবদুল মালেক। গত বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর বিষয়টি জানাজানি হয়। স্থানীয় কয়েকজন ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গোপীনাথপুর গ্রামের দরিদ্র পরিবারের মেয়েশিশুটি গত বুধবার বাড়ির পাশে খেলছিল। ওই সময় আবদুল মালেক তাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে একটি ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। প্রতিবেশী আবদুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরে আবদুল মালেকের স্ত্রী বাড়িতে নেই। এ সুযোগে মালেক শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশুটির মা জানান, ধর্ষণের কারণে ঘটনার রাতে তার মেয়ে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে সে তার মামির কাছে বিষয়টি জানায়। পরের দিন সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে পালিয়ে যান আবদুল মালেক। অবস্থার অবনতি হলে গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে ভর্তি করা হয় চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে। হাসপাতালের গাইনি কনসালট্যান্ট আকলিমা খাতুন ওই শিশুটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। খবর পেয়ে হাসপাতালে যান পুলিশ সুপার (এসপি) মাহবুবুর রহমানসহ পুলিশ ও প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। এসপি বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে নির্যাতিত ওই শিশুটির চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করছি। একই সঙ্গে ধর্ষক আবদুল মালেককে গ্রেপ্তারে পুলিশ ইতিমধ্যে মাঠে নেমেছে। খুব শিগগিরই আমরা ধর্ষক মালেককে গ্রেপ্তারে সক্ষম হব।’ এদিকে গতকাল সকালে শিশুটির মা বাদী হয়ে আবদুল মালেকের নামে সদর থানায় মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম।
মানিকগঞ্জ : ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার রুবেলের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা ইউনিয়নের বাঙ্গরা গ্রামে। তিনি গৃহশিক্ষকতা ছাড়াও মানিকগঞ্জ বেতিলা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী হিসেবে কাজ করেন। গতকাল দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। মেয়েটি এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মানিকগঞ্জ সদর থানার এসআই হারেজ শিকদার জানান, গৃহশিক্ষক রুবেল অনেক দিন ধরেই ছাত্রীটিকে নানাভাবে যৌন নিপীড়ন করে আসছিলেন। গত ৬ জুলাই প্রাইভেট পড়ানোর সময় ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। ওই সময় মেয়েটি ঘর থেকে দৌড়ে বের হয়ে যায়। ঘটনা কাউকে না জানাতে ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখান রুবেল। গত বুধবার ছাত্রীর জামায় ধর্ষণের আলামত দেখে তার কাছে ঘটনা জানতে চান খালা। পরে তার কাছে ঘটনাটি জানায় মেয়েটি। এরপর তার মা-বাবাও বিষয়টি জানতে পারেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করলে পুলিশ রাতেই রুবেলকে গ্রেপ্তার করে।
ঝালকাঠি : জেলার রাজাপুরে এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার রাতে তার মা বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই স্কুলছাত্রী উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের একটি স্কুলের ছাত্রী। এ ঘটনায় এমরান নামের যুবককে ওই রাতেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বাড়ি একই ইউনিয়নের পুখরীজনা গ্রামে। তিনি ছাত্রীর আপন মামাতো ভাই। মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ভোরে এমরান ভয়ভীতি দেখিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। পরে তিনি এ কথা কারও কাছে না বলতে হুমকি দেন। ঘটনার সময় স্কুলছাত্রীর মা খুলনায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাজাপুর থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।