অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শুক্রবার ভারী বর্ষণের সতর্কবার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং
চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের শঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা, ময়মনসিংহ, রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, সেখানে ষষ্ঠ দিনের মতো বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এতে নগরীর নি¤œাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল বেলা ৩টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ৯৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে ভারী বর্ষণ আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, টানা বৃষ্টিতে রাঙ্গামাটিতে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে। গত কয়েক দিনে ঝুঁকিতে থাকা দুই হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি শহরসহ জেলার বেশকিছু স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। এদিকে কয়েক দিন টানা বর্ষণে জেলার প্রধান সড়কগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় ভারী যান চলাচল বন্ধে অনুরোধ জানিয়েছে সড়ক বিভাগ। গতকাল এক চিঠিতে রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল এ অনুরোধ করেন। জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ জানান, প্রবল বর্ষণে সড়কের বিপর্যয় এড়াতে সড়ক বিভাগ থেকে ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেকোনো সময় পাহাড়ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই আপাতত সব সড়কে ট্রাক ও বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, টানা ভারী বৃষ্টিতে বান্দরবান শহরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া জেলা শহরের নিম্নঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নোমান হোসেন প্রিন্স জানান, শহরে আটটি আশ্রয়কেন্দ্রে পানিবন্দি ও পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা ২০০ পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। এর বাইরে আরও ৩০০ পরিবার আছে। যাদের মাইকিং করে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে।
এ ছাড়া খাগড়াছড়ি ও কক্সবাজারের আবহাওয়া অফিস ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলেছে। স্থানীয় প্রশাসনও নাগরিকদের নিরাপদে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।’