বাঁধ ভেঙে কমলগঞ্জের শতাধিক পরিবার পানিবন্দি

উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে এসে শুক্রবার রাত ৯টা থেকে ধলাই নদীতে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। এ সময় পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ক্রমে পানি বেড়ে রাত ২টায় রামপাশা গ্রামের শ্যামল পাল চৌধুরীর বাড়ি সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১০০ ফুট পরিমাণ প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে রামপাশা ও কুমড়া কাপন গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এ এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে ৪টি পরিবার যথাক্রমে জয়ধন মালাকার, যোগিন্দ্র মালাকার, মনিন্দ্র মালাকার ও সুনিল মালাকারের পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়।

শুকার বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর থেকে শনিবার পর্যন্ত রামপাশা গ্রামের শ্যামল পাল চৌধুরী, নির্মল পাল চৌদুরী, প্রত্তোষ ধর, প্রতীম ধর, পদন্য পাল, অমর পাল চৌধুরী, মনির হোসেন, খোকন মালাকার, গৌতম কর, সত্তার মিয়া, নিধু করসহ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

কমলগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘গভীর রাতে বাঁধ ভেঙে ঢলের পানি প্রবেশ করে এ প্লাবনের সৃষ্টি করেছে। প্লাবনের পানিতে রামপাশা ও  কুমড়াকাপন গ্রামের ব্যাপক এলাকার ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

শনিবার সকাল থেকে পানি গিয়ে ছাইয়াখালি হাওরে জমা হতে শুরু করে। তারা  আরও বলেন, আগে থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল এ এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি পরিবারগুলোকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন রামপাশা ও কুমড়াকাপন গ্রামসহ পুরো কমলগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদীর উপর সার্বিক নজরদারি করছে।

ঘটনাস্থলে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক কর্মকর্তা খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন, “এ এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধসহ পুরো ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধে পাথরের ব্লক স্থাপনে একটি প্রস্তাব ২ মাস আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ প্রস্তাব পাশ হলে প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু হবে। আপাত শুক্রবার রাতে ভেঙে যাওয়া অংশে মেরামত কাজ করার জন্য একজন ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। পানি কমলে কাজ শুর হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী রামপাশা গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্লাবনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,  ঘটনাস্থলে তাদের দুইজন কর্মকর্তা নজরদারি করছেন। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিরক্ষা বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করছেন।

নির্বাহী প্রকৌশলী আরও বলেন, উজানে  তেমন বৃষ্টি না হলে আশঙ্কার কিছু নেই। তবে উজানে ভারী বৃষ্টি হলে কমলগঞ্জে ধলাই নদীতে পানি বেড়ে যেতে পারে।

মৌলভীবাজার: উজান থেকে আসা ঢলের পানিতে মৌলভীবাজারের প্রধান তিন নদী কুশিয়ারা, মনু ও ধলাইয়ের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে নদী তীরের মাঝে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে নদ-নদীগুলোর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ রয়েছে ভাঙন হুমকিতে।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, কুশিয়ারা নদীর মৌলভীবাজার অংশের শেরপুর অংশে বিপদসীমার ৪২ সে.মি., মনু নদের মনু রেলসেতুর কাছে ৩২ সে.মি., মনু ব্যারেজ এলাকায় ৩৭ সে.মি., মনু সেতু এলাকায় ৩২ সে.মি. ও ধলাই নদীর ধলাই রেলসেতু এলাকার ৩২ সে.মি. বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

নদ-নদীতে অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের বাইরে অবস্থানকারী সদর উপজেলার নতুনবস্তি, ব্রাহ্মণগ্রাম, হামরকোনা, দাউদপুরসহ বিভিন্ন গ্রামের অন্তত শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি পানিতে নিমজ্জ্বিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে ব্রাহ্মণগ্রামের কাছে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবারের মানুষ জলবন্দি হয়ে পড়েছেন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী মোবাইল ফোনে জানান, কুশিয়ারা, মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপরোক্ত ফলাফল রেকর্ড করা হয়েছে।