টাঙ্গাইলে নিখোঁজ আইনজীবীসহ ২ মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইলে জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সিনিয়র আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মিঞা মো. হাসান আলী রেজার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

দীর্ঘ ৫দিন নিখোঁজের পর শনিবার বেলা ১২টার দিকে সদর উপজেলার ৩নং ওয়ার্ড কাগমারার পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়ার লৌহজং নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান জানান, দুপুরের দিকে পৌর শহরের কাগমারার পশ্চিম আকুর টাকুর পাড়া এলাকার লৌহজং নদীতে আইনজীবীর ভাসমান মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার পরিবারের সদস্যরা উদ্ধারকৃত মরদেহটি নিখোঁজ প্রবীণ আইনজীবী মিঞা মো. হাসান আলীর বলে শনাক্ত করেন।

তিনি আরও জানান, হাসান আলীকে হত্যার পর তার মরদেহটি নদীতে ফেলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি তিনি। এছাড়াও পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবার তার সন্ধান চেয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় জিডি করেছেন।

নিহত আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা মিঞা মো. হাসান আলী রেজা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের প্রতিষ্ঠাতাকালীন কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সদস্য ও জেলা শাখার সহ-সভাপতি।

একই দিন টাঙ্গাইল মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পীর শাহজামান দিঘির সন্তোষ বাজার সংলগ্ন পাড় থেকে বাদশাহ নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে কাঁগমারী ফাড়ি পুলিশ। শনিবার সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে তারা মরদেহটি উদ্ধার করে এবং মরদেহের পাশেই হাতেম নামে এক ব্যক্তিকে গর্ত খোড়া অবস্থায় আটক করে পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসীরা জানান, হাতেম ও বাদশাহ দুইজনেই মানসিকভাবে অসুস্থ ও পাগলা নামে খ্যাত এবং ঘনিষ্ট বন্ধু। দুইজনে এক সঙ্গে মাদক গ্রহণ করতেন। গত ৯ এপ্রিল বাদশাহ মারা যান এবং তাকে বড় বেলতা দক্ষিণ পাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। গত শুক্রবার রাত ১১ টা ৩০ মিনিটে হাতেম কবরস্থান থেকে বাদশাহর মরদেহ তুলে পীর শাহজামান দিঘির পাড়ে নিয়ে আসে এবং দাফন করার জন্য গর্ত খুড়তে থাকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কাঁগমারী পুলিম ফাড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোখলেছুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তথ্যের ভিত্তিতে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাদশাহর মরদেহ উদ্ধার ও হাতেমকে আটক করি। হাতেমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান এটা বাদশাহর মরদেহ এবং বড় বেলতা দক্ষিণ পাড়া কবরস্থান থেকে এই লাশ তুলে এনেছে। বড় বেলতা দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে গিয়ে এলাকাবাসীর কথা বলে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ওই কবরস্থানেই সকাল সাড়ে ১০টা পুনরায় বাদশাহর মরদেহ দাফন করা হয়।

মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় হাতেমকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মৃত বাদশাহ সন্তোষ ঘোষপাড়া মৃত গুইঠ্যার ছেলে এবং হাতেমের বাড়ি সন্তোষ পুরাতন পাড়ায়।