রামগঞ্জে কৃষকদের পরিবর্তে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করছে। ওই সিন্ডিকেট খাদ্য কর্মকর্তা এবং ওসি এলএসডিকে ম্যানেজ করে কৃষকদের বাধ্য করছে প্রতি মণ ধান ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে তাদের কাছে বিক্রি করতে। তারপর চক্রটি ওই ধান সরকারি খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করছে। এতে সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।
সব জেনে রামগঞ্জ আসনের সাংসদ আনোয়ার হোসেন খান আগের দেওয়া কৃষি কার্ড বাতিল করে নতুন কৃষি কার্ড তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন।
রামগঞ্জ খাদ্য গুদাম, উপজেলা কৃষি অফিস ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রামগঞ্জ পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয় একটি সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেট খাদ্য কর্মকর্তা এবং ওসি এলএসডিকে ম্যানেজ করে কৃষকদের বাধ্য করে প্রতি মণ ধান ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে তাদের কাছে বিক্রি করতে। পরে তারা ওই ধান সরকারি খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
এদিকে, ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের খবর পেয়ে গত শনিবার ঢাকা থেকে ছুটে আসেন রামগঞ্জ আসনের সাংসদ আনোয়ার হোসেন খান। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে আগের দেওয়া কৃষি কার্ড বাতিল করে নতুন কার্ড তৈরি করতে বলেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, গত ২৩ মে থেকে এই উপজেলায় চলতি বছরের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে।
আবুল কালামসহ কয়েক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, বাজারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মুনাফা পাওয়ায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে নিচ্ছে। পরে সিন্ডিকেট দলের সদস্যরা সে ধান সরকারি খাদ্য গুদামে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে গরিবের হক।
ইছাপুরের কৃষক মো. হানিফ, রাঘবপুরের ইকবাল ও জসিম বলেন, ‘সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে সিন্ডিকেট দলের সদস্য হাজী এনায়েত উল্যা, কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন কৃষকদের ধান কেনা শেষ হয়ে গেছে বলে জানান।’ ধান সংগ্রহের তালিকায় মৃত ব্যক্তি ও কৃষক নয় এমন নামও রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এ ব্যাপারে কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা প্রকৃত কৃষক। আমরা নিজেদের ধান বিক্রি করছি। এখানে সিন্ডিকেটের কোনো অস্তিত্ব নেই।’
রামগঞ্জ খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি ইসমাইল হোসেন জানান, এমপি সাহেব অনিয়মের খবর পেয়ে ধান সংগ্রহ করতে নিষেধ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানভীর আহম্মেদ সরকার বলেন, ‘সাংসদ আনোয়ার হোসেন খানের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন তালিকা দু-এক দিনের মধ্যেই করা হবে।’
স্থানীয় এমপি ড. আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘ধান ক্রয়ে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও ওসি এলএসডিকে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। এতে কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।’