পাবনা বিএনপিতে কোন্দল

পাবনার ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলিবর্ষণ মামলায় বিএনপি নেতাদের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশকে কেন্দ্র করে কোন্দল দেখা গেছে বিএনপিতে। রায় ঘোষণার পরের দিনই ঈশ্বরদী বিএনপির একাংশের নেতৃত্ব দিয়ে আসা কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নির্বাচিত করে কমিটি ঘোষণা দেওয়া। বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত নেতাকর্মীরা শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ডাদেশের জন্য বিএনপি নেতাদেরই দায়ী করে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নব্বই দশকের মাঝামাঝি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব বিএনপিতে যোগ দেন। সে সময় ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন পাবনা-৪ আসনের সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার। হাবিবের যোগদানের পর থেকেই ঈশ্বরদী বিএনপি হাবিব ও সিরাজ গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ে। প্রকাশ্যে এই দুই নেতার বিরোধের কারণে ঈশ্বরদীতে বিএনপির শক্ত অবস্থান থাকার পরও ১৯৯১ সালের পর আর কখনই নির্বাচনে জয়ী হয়নি দলটি। এরই মধ্যে গত ৩ জুলাই পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনে

হামলা ও গুলিবর্ষণের মামলায় ঈশ্বরদী বিএনপির ৯ নেতাকর্মীর মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন, ১৩ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেয়। তারা সবাই দলের প্রথম ও দ্বিতীয় সারির নেতা এবং সক্রিয় কর্মী। এরই মধ্যে দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত উপজেলা বিএনপির ৯ শীর্ষ নেতার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পৌঁছেছে।

রায়কে কেন্দ্র করে ঈশ্বরদী বিএনপিতে সিরাজ-হাবিব দ্বন্দ্বের পুরনো সংকট নতুন করে জেগে উঠেছে। রায়ের পর দিনই ৪ জুলাই হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক ও সিদ্দিকুর রহমানকে সদস্য সচিব করে কমিটি ঘোষণাকেও মেনে নিতে পারেননি ঈশ্বরদী ও জেলা বিএনপির একটি অংশ। এমন বাস্তবতায় গত ১০ জুলাই হাবিবুর রহমান হাবিবের সাহাপুরের বাড়িতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টুর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেননি সিরাজুল ইসলাম সর্দার ও তার সমর্থকরা। প্রতিবাদ সমাবেশে অনুপস্থিত ছিলেন সদ্য বিলুপ্ত জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুস সামাদ খান মন্টু, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতাসহ অনেক নেতা।

এ বিষয়ে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সিরাজুল ইসলাম সরদার বলেন, ‘হাবিব মনোনয়ন না পেয়ে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে এসে ঈশ্বরদী বিএনপিকে ধ্বংস করেছেন। ১৯৯৪ সালের সেই ঘটনার দিন হাবিব ছিলেন আওয়ামী লীগের লোক। রায়ের পরে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন। এমন অযোগ্য, বিতর্কিত লোক কী করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হন, তা আমার বোধগম্য নয়। তিনি কেবল ঈশ্বরদী নয়, পুরো পাবনা জেলায় বিএনপির রাজনীতিই এবার ধ্বংস করবেন।’

সিরাজুল ইসলাম সর্দারের ষড়যন্ত্রেই  ঈশ্বরদী বিএনপি এত বড় সংকটে পড়েছে দাবি করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, ‘১৯৯৪ সালে ট্রেনে গুলিবর্ষণের ঘটনায় সিরাজ সরদার সরাসরি জড়িত ছিলেন। তার ইন্ধনেই ওই ট্রেনে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, বোমা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আমি নিজে ওই দিন শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ছিলাম এবং ঈশ্বরদীর পথসভা পরিচালনা করেছিলাম। ঈশ্বরদীর ওই ঘটনার জন্য যদি কারও ফাঁসি হওয়ার থাকে, তবে সিরাজ সরদারের ফাঁসি হওয়া উচিত। অথচ সিরাজ সরদার বা তার অনুসারীদের কেউই এ মামলার আসামি তালিকাতেও নেই।’

দলে কোনো কোন্দল নেই দাবি করে হাবিব বলেন, সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটিতে বিএনপির যোগ্য, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের রাখা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে জেলার ৯ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি পুনর্গঠন ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সংগঠিত করে দলকে শক্তিশালী করা হবে।