জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। আসছে ঈদের নাটক নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এবার ঈদে ছোট-বড় দুই পর্দায়ই তিনি থাকছেন। এসব নিয়েই তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ
ঈদে দুই পর্দাতেই
রোজার ঈদের ছুটির পরই কোরবানি ঈদের নাটকের শ্যুটিং শুরু করেছি। এরই মধ্যে বেশ কিছু নাটকের কাজ শেষ করেছি। সামনে আরও কিছু কাজ করব। নাটকের বাইরে কোরবানির ঈদে আমার অভিনীত একটি সিনেমাও মুক্তি পাবে। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের প্রযোজনায় এ সিনেমার নাম ‘ভালোবাসার রাজকন্যা’। এতে আমার সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন শিপন মিত্র। এরই মধ্যে সিনেমাটির প্রচারণা শুরু হয়ে গেছে। খুব ভালো গল্পের একটি সিনেমা। যারা রুচিশীল সিনেমা দেখতে চান তাদের ভালো লাগবে আমাদের কাজটি।
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসা’
গত ১৩ জুলাই প্ল্যাটফরম কমিউনিকেশনস নামের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে আমার অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ভালোবাসা’। প্রয়াত সাহিত্যিক শহীদুল জহিরের গল্প অবলম্বনে শাওন কৈরীর চিত্রনাট্যে এটি নির্মাণ করেছেন শুভ্রা গোস্বামী। এতে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন দীপক সুমন। গত বছর ডিসেম্বরে না-ফেরার দেশে চলে গেছেন নন্দিত চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন। এটিই ছিল তার শেষ কাজ। এরই মধ্যে কাজটির জন্য ভালোই সাড়া মিলছে।
আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা...
‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’, ‘লালসালু’র মতো সিনেমায় আনোয়ার হোসেনের ক্যামেরার কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। ‘ভালোবাসা’ শর্টফিল্মে আমার চরিত্রটি আহামরি কিছু নয়। তাই কাজটি আমি প্রথমে করতে চাইনি। কিন্তু যখন জানলাম এটির চিত্রগ্রাহক হিসেবে থাকছেন আনোয়ার ভাই, তখন রাজি হয়ে গেলাম। সত্যি বলতে, তার সঙ্গে কাজ করার লোভ সামলাতে পারিনি। শ্যুটিংয়ে প্রথমে একটু অস্বস্তি লাগছিল। প্রতি দৃশ্যেই আনোয়ার ভাই ক্যামেরা তাক করে বসে থাকতেন। অনেক সিনিয়র আর সম্মানের একজন মানুষ। তাই স্বাভাবিক হতে পারছিলাম না। শ্যুটিংয়ের কিছুক্ষণ পর টের পেলাম তিনি আমাদের অনেকের চেয়ে আধুনিক আর প্রাণবন্ত একজন মানুষ। আমার অস্বস্তির বিষয়টা টের পেয়ে শ্যুটিংয়ের ফাঁকে আমার একটা ছবি তুলে বলেছিলেনÑ আমি যেদিন থাকব না, সেদিন এটা বাঁধাই করে রাখতে পারবি। খুব কষ্ট হয়, কাজটি করার কয়েক মাসের ব্যবধানে মানুষটি চলেই গেল। সে জন্যই হয়তো এই কাজটি আমার কাছে অমূল্য। সবাইকে এটি দেখার অনুরোধ করছি।