তালাবন্দি ভালোবাসা

মানুষের জীবনে যত দুর্বোধ্য বিষয় রয়েছে, তার মধ্যে সব থেকে বেশি দুর্বোধ্য মনে হয় প্রেম বা ভালোবাসা। তবে যতই দুর্বোধ্য হোক না কেন, ভালোবাসা ছাড়া যেন চলে না আমাদের। আর ভালোবাসা মানেই নানা ধরনের পাগলামি। তেমনি হলো ‘লাভ লক’ বা ভালোবাসার তালা। একটা তালায় প্রেমিক-প্রেমিকা তাদের নাম বা প্রেমের সংলাপ লিখে কোনো রেলিংয়ে তালাটি লাগিয়ে দিয়ে চাবিগুলো ফেলে দেয়। তারা বিশ্বাস করে তালাটি যত দিন বন্ধ থাকবে, তত দিন তাদের ভালোবাসাও থাকবে অটুট। বিশে^র বিভিন্ন দেশের ভালোবাসার তালার গল্প নিয়ে লিখেছেন লায়লা আরজুমান্দ

যেখান থেকে শুরু

ভালোবাসার তালা কবে থেকে সেতুতে লাগানো শুরু হয়েছে বা তার পেছনের কাহিনী কী, সেটি নিয়ে নানা ধরনের বিতর্ক প্রচলিত রয়েছে। তবে সব থেকে বেশি প্রচলিত হচ্ছে সার্বিয়ার এক প্রেমিকজুটির গল্প। সেই গল্পে যেতে হলে ফিরতে হবে ১০০ বছর আগে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়।

সার্বিয়ার ভিনজেকা ব্যানজা নামক এলাকায় থাকতেন দুই তরুণ-তরুণী। তারা একে অপরের প্রেমে ছিলেন দিওয়ানা। মেয়েটি স্কুলশিক্ষিকা, নাম তার নাদা। আর ছেলেটি সেনাবাহিনীতে কর্মরত, নাম রেলজা। সিদ্ধান্ত নিলেন বিয়ে করার। আর সেই জন্য করলেন আংটি বদলও। এরই মধ্যে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। রেলজা চলে গেলেন যুদ্ধে। বলে গেলেন ফিরে এসে বিয়ে করবেন। অপেক্ষায় রইলেন নাদা। দিন যায় মাস যায় একসময় যুদ্ধও শেষ হয় কিন্তু রেলজা আর ফেরে না। জানা গেল, যুদ্ধে গিয়ে কর্ফু নামে আরেক তরুণীর প্রেমে পড়েছেন রেলজা। সেই নারীর সঙ্গে তিনি রয়েছেন গ্রিসে। নাদা সেটা মানতে পারল না কোনোভাবেই। নিজের প্রেমের এমন করুণ পরিণতি হবে, এ যেন তিনি ভাবতেই পারেন না। মানসিক কষ্টে উদ্ভ্রান্তের মতো দিন পার করতে লাগলেন। নানা অসুখ জেঁকে বসল তার শরীরে। কিছুদিন পর পরিবার থেকে অনেক দূরে একাকী অবস্থায় মারা গেলেন নাদা।

এ ঘটনার পর সেই শহরের মেয়েরা ভিনজেকা ব্যানজা নাম সেতুর রেলিংয়ে নিজের ভালোবাসা রক্ষা করতে নিজের ও প্রেমিকের নাম লেখা তালা লাগিয়ে রাখতেন। আর চাবি ছুড়ে দিতেন পানিতে। এই সেতুতেই একসময় দেখা করত নাদা আর রেলজা। সেই থেকে সেতুর রেলিংয়ে তালা লাগানোর প্রচলন শুরু হয়।

প্রেমের ভারে প্যারিসে সেতুতে ধস

প্যারিস শহরকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে সিন নদী। আর এই নদীর ওপর রয়েছে ৩৭টি সেতু। তবে ৮৬৪ খ্রিস্টাব্দের আগে এই নদীতে কোনো সেতু ছিল না। এরপর একে একে নির্মিত হয়েছে শৈল্পিক সেতুগুলো। এই সেতুর কয়েকটিতে চোখে পড়বে রেলিংয়ে লাগানো বিশেষ এক ধরনের তালা। সেই তালার নাম ‘লাভ প্যাড লক’। এখানেও প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরের নামের প্রথম অক্ষর খচিত করে এই তালাগুলো রেলিংয়ে ঝুলিয়ে চাবিটি সিন নদীতে ফেলে দেয়। প্রেমিক-প্রেমিকার ভালোবাসা প্রকাশের এই অনন্য রীতি প্যারিসকে ভালোবাসার শহর হিসেবে খ্যাতি দিয়েছে। শুধু দেশটির নয়, বহু বিদেশি পর্যটকও তালা ঝোলান এই হেঁটে চলার সেতুর রেলিংয়ে।

প্রথম দিকে একটি দুটি সেতুতে এই তালা লাগানো হলেও, এখন তা ছড়িয়ে পড়েছে আরও অনেক সেতুতে। আর এসব দিক দিয়ে সব থেকে বেশি জনপ্রিয় হলো নটর ডেম গির্জায় যাওয়ার জন্য সিন নদীর ওপর বানানো একটি সেতু। মজার বিষয় হচ্ছে, সেই  সেতুর জনপ্রিয়তার জন্য গুগল মানচিত্রেও একে ‘লাভ লক ব্রিজ’ হিসেবে দেখানো হয়। এরপরই সবচেয়ে বেশি ভালোবাসার তালা ঝোলানো হয় লোভ্যর জাদুঘর থেকে ন্যাশনাল স্কুল অব ফাইন আর্টসের দিকে যেতে ফন দে আর্টস নামের সেতুটি। অতিরিক্ত পরিমাণের তালা লাগানোর কারণে ওজন ধরে রাখতে পারেনি সেতুর রেলিং। ২০১৪ সালে সেতুর একপাশের রেলিং হেলে পড়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে পর্যটকদের জরুরি ভিত্তিতে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেই সেতুর আশপাশ থেকে। তারপর সরিয়ে ফেলার হয় সেতুর রেলিং থেকে তালা। এ ঘটনার পর নতুন করে টনক নড়ে কর্র্তৃপক্ষের। সেতুগুলোতে এই বিপুল পরিমাণ তালা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। তাই ২০১৫ সালে বেশ কিছু জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় তালা ঝোলানো সেতুর রেলিংগুলো। বিভিন্ন সেতু থেকে ৫৪ টনেরও বেশি তালা খুলে ফেলা হয়।

আর সেসব সেতু দেখাশোনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীরা সেতুগুলোতে টানিয়ে দিয়েছেন ‘লাভ উইদাউট লক’ শিরোনামের সাইনবোর্ড। তা ছাড়া বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বাস্তবিক তালার বদলে ইন্টারনেটে ভার্চুয়াল লাভ লক ক্যাম্পেইনও চালু করেছে। তবে তারপরও অনেক সেতুই এখনো চোখে পড়ে তালা। শুধু সেতু কেন গাছেও হরহামেশা দেখা যাচ্ছে এই লাভ লক।

সিউলে রেলিংয়ের বদলে ধাতব গাছ

প্রেমের তালার ব্যাপক বিস্তার দেখা যায় দক্ষিণ কোরিয়ায়। ভালোবাসার তালা ঝোলানোর জন্য সব থেকে জনপ্রিয় হলো নামসান টাওয়ার। সিউলে অবস্থিত নামসান পাহাড়ের ওপর নির্মিত ২৪৩ মিটার উঁচু একটি টাওয়ার হলো নামসান। কোরিয়ায় আসা পর্যটক এবং এখানে বসবাসকারী লোকজনের কাছে এটা খুবই আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় স্থান। এই টাওয়ারটি সিউল টাওয়ার নামেও পরিচিত। এই টাওয়ারের ওপর থেকে সমগ্র সিউল শহর এবং এর আশপাশের দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ দেখা যায়। ১৯৮০ সালের ১৫ অক্টোবর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী এ টাওয়ারটি দেখতে আসে। আসে শত শত প্রেমিক-প্রেমিকা। আর তাদের প্রেমের উত্তাপে উষ্ণ সবাই।

আর প্রতিদিন দর্শনার্থীদের সঙ্গে সঙ্গে এখানে যুক্ত হয়েছে ভালোবাসার তালা লাগানোর একটি রীতি। টাওয়ার এলাকায় গেলে দেখা যাবে তালার যেন মেলা বসেছে। তবে এখানে তালা ঝোলানোর জন্য অভিনব এক ব্যবস্থা করেছে কর্র্তৃপক্ষ। রেলিংয়ে যাতে করে কোনো ধরনের তালা না ঝোলানো হয় এবং অতিরিক্ত ওজনে যেন রেলিংয়ের কোনো ক্ষতি না হয়, সে জন্য বানানো হয়েছে বিশেষ ধরনের ধাতব গাছ। টাওয়ারের চত্বরে সারি সারি করে বসানো হয়েছে সেই গাছগুলো। সেগুলো বলা হয় ভালোবাসা বা প্রেমের তালার ধাতব গাছ। শত শত তালা ঝুলছে সেসব গাছে। নিচের দিকে জায়গা না পাওয়া যাওয়ায় অনেকে আবার প্রেমিকাকে কাঁধেই তুলে নেন, যাতে সবার ওপর লাগাতে পারে তাদের প্রেমের নিশানা।

তবে এত কিছুর পরও ঠেকানো যায়নি রেলিংয়ে তালা ঝোলানো। গাছের মতোই সমান জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে রেলিংগুলোও। কয়েক বছর আগেও যেখানে দেখা যেত শত শত তালা, এখন সেখানে ঝুলছে হাজার হাজার তালা। নতুন নতুন, বাহারি রঙের তালার দোকান খোলা হচ্ছে সেখানে। সেগুলো খুবই জনপ্রিয়। যেহেতু পাহাড়ের ওপর টাওয়ার আর আশপাশে কোনো নদী নেই, তাই চাবি ছুড়ে মারা হবে কোথায়। যদি সবাই পাহাড় থেকে নিচে নিক্ষেপ করে চাবি, তাহলে কী হবে! সেই চিন্তা থেকেই চাবি ফেলার জন্য বানানো হয়েছে বিশেষ ধরনের ঝুড়ি। আর সবাইকে এ বিষয়ে বেশ সচেতন বলতে হবে। নিয়ম করে সবাই সেখানে চাবি ফেলে। টাওয়ার থেকে ছুড়ে মারা চাবি দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

ইতালিতে রাখা হয়েছে প্রদর্শনীর জন্য

রোমান্টিক শহর বলে খ্যাতি রয়েছে রোমের। রোম নগরীর বর্ণনা লিখে প্রকাশ করা এক কথায় অসম্ভব। পরিচ্ছন্ন আর স্বচ্ছ বাতাসে ঘুরে বেড়ানো মানুষের মনে মুহূর্তেই আনন্দের জোয়ার উঠে এ শহরে এসে। নতুন প্রেমিক-প্রেমিকা ও নবদম্পতিদের কাছে তাই পছন্দের তালিকায় থাকে রোমের নাম।

অনেকে মনে করেন, ভালোবাসা বা প্রেমের এই তালার কনসেপ্ট প্রথমে শুরু হয় ইতালি থেকেই। সেনারা যখন যুদ্ধে যেত, তখন নিজ নিজ শহরের দরজা, বেড়া ইত্যাদি জায়গায় তারা এ ধরনের তালা ঝুলিয়ে রেখে যেত। বলা হতো, এটা এক ধরনের প্রতিজ্ঞা যে, যুদ্ধ শেষে তিনি আবার এ শহরেই ফিরে আসবেন। তখন এর সঙ্গে প্রেমিক-প্রেমিকার কনসেপ্ট যুক্ত হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই ইতালিতে এই তালা লাগানোর প্রচলন ছিল।

তবে সেটি ২০০৬ সালে এসে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে যায়। আর সেটা শুরু হয় ইতালীয় লেখক ফেদেরিকো মোয়াচা ‘আই ওয়ান্ট ইউ’ বইয়ের হাত ধরে। পরবর্তী সময়ে তা নিয়ে একটি সিনেমাও নির্মাণ করেন তিনি। এরপর থেকেই রোমে প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে সব থেকে বেশি জনপ্রিয় হলো রোমের টাইভার নদীর মিলভিয়ান সেতু। এই সেতুটি রোমের সব থেকে পুরনো। হাজার হাজার তালা লাগানোর ফলে এর ওজন বেড়ে যাচ্ছিল। মরিচা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল এর রেলিংগুলো। সেতু বাঁচাতে কর্র্তৃপক্ষ সেটা সরানোর উদ্যোগ নেয়। যেহেতু রোমকে বলা হয় রোমান্টিক শহর, তাই ভালোবাসার এই নিদর্শন তারা নষ্ট করল না। রেলিংসহ সেটি নিয়ে প্রদর্শনীর জন্য স্থাপন করল সিটি হলে। আর সেতুতে লাগানো হলো নতুন রেলিং। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো রেলিংয়ে আর তালা লাগানো যাবে না। কিন্তু ভালোবাসার তালার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ছয়টি বিশাল উঁচু স্ট্যান্ড। সেখানেই এখন ঝোলানো হয় তালা। তার চারদিকে রেলিং দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। যাতে সেখানে নিরাপদেই থাকতে পারে ভালোবাসার তালা।

নিউ ইয়র্কে তালা লাগালে জরিমানা

নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিন সেতু। ম্যানহাটন আর ব্রুকলিনকে মিলিয়েছে এই সেতুই। ইস্ট রিভারের ওপর গড়ে ওঠা সেতুটির জন্ম এক শ বছরেরও আগে। তৈরি করতে সময় লেগেছিল ১৪ বছর। ব্রুকলিন সেতু অনেক আগে থেকেই প্রেমিক-প্রেমিকাদের তীর্থকেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত হয়ে আসছিল। হাজারো তালায় ভরে গিয়েছিল এই সেতু। কিন্তু সম্প্রতি দেশটির বেরসিক পুলিশ সেখানে বাধা দিচ্ছে। আগের সব তালা কেটে খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর নতুন কেউ তালা লাগাতে গেলেই গুনতে হচ্ছে জরিমানা। তা ছাড়া সেতুর ওপর একটু পরপর লেখা রয়েছে তালা লাগাবেন না।

সেতুতে নিষেধ হলে কী হবে, সেতুর বাইরে তো আর তালা লাগানো নিষেধ নেই। শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে হাঁটতে গেলে হঠাৎই যদি চোখে পড়ে যায় তালা ঝোলানো কোথাও, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

জার্মানিতে তালা না ঝোলাতে সতর্কতা

জার্মানির বিখ্যাত নদী রাইন। বিশেষ করে কোলেন শহরের রাইন অন্য রকমের সুন্দর। রাইনের এপার থেকে ওপার বেষ্টন করে আছে হোহেনজের্লান সেতু। ১৩৪২ ফিট দৈর্ঘ্যরে এই সেতুটি বেশ পুরনো। নির্মিত হয়েছিল ১৯১১ সালে। বাস, রেল ও পায়ে হাঁটার তিন ধরনের সুবিধাই রয়েছে এই সেতুটিতে।

ভীষণ সুন্দর এই সেতুটার আর একটা সৌন্দর্য হলো, এর গায়ে ঝোলানো রয়েছে অসংখ্য রঙিন তালা। মূলত রেললাইন আর হাঁটার মাঝখানে যে রেলিং রয়েছে, সেখানেই ঝোলানো হয় এই তালা। তবে জার্মানিতে এই রেওয়াজ খুব বেশি দিনের নয়। ২০০৮ সাল থেকে শুরু হয়েছে এই রীতি এবং এরই মধ্যে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তা। এখনই সেই তালা সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেছে ৫০ হাজারেরও বেশি। আর এই তালার ওজন এরই মধ্যে ছাড়িয়ে গেছে দুই টনেরও বেশি।

এখানকার তালায় দেখা যায় আরেক বৈশিষ্ট্য। শুধু নাম নয়, অনেকে আবার ভালোবার কথাও লিখে তালা মেরে চাবি ফেলে দেন রাইনের বুকে। তারা মনে মনে আশ্বস্ত হন, তাদের ভালোবাসা অটুট থাকবে। প্রেমের অনুভূতির বাহ্যিক প্রকাশ অন্যসব অনুভূতির চেয়ে নিশ্চয়ই বেশি।

এখন সেতুর এই রেলিংটিকে বেশ চিত্তাকর্ষক বলেই মনে হয়। কিন্তু একটা সময় পর হয়তো আর সেটি থাকবে না। প্যারিসের মতো খুলে নেওয়া হবে তালা। ব্রিজ কর্র্তৃপক্ষ এরই মধ্যে সতর্ক করেছেন, যাতে কেউ তালা না ঝোলান।

রয়েছে চীনের মহাপ্রাচীরেও

চীনের আনাচে-কানাচে প্রাচীন সংস্কারের ছড়াছড়ি। আর লাভ লক থাকবে না সেখানে, সেটা হয় নাকি! আর এই লাভ লকের প্রচলন শুরু হয়েছে চীনের মাউন্ট হুয়াং থেকে। চীনাদের কাছে এই পাহাড় খুব পবিত্র। অনেকে এখানে এসে নানা ধরনের মানত করে থাকেন। পাহাড়ে ওঠার যে সিঁড়ি রয়েছে, তার রেলিংয়েই তালা ঝুলিয়ে থাকেন প্রেমিক-প্রেমিকারা। মূলত ২০০০ সাল থেকে এই প্রচলন শুরু হয় চীনে।

তবে এর পেছনে নাকি রয়েছে তাদের নিজস্ব একটি গল্প। অনেক অনেক দিন আগে চীনে ধনী বাবার এক মেয়ে প্রেমে পড়েছিল গরিব এক ছেলের। বাবা সেটা মেনে না নিয়ে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছিল অন্য কোথাও। বিয়ের দিন ছেলে আর মেয়েটি পালিয়ে এসে এই পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে মারা যায়। তাদের দেহও আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। আর তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তালা লাগানোর প্রচলন নাকি শুরু হয়েছে। তবে শুধু এই পাহাড়ে কেন চীনের মহাপ্রাচীরেও পাওয়া গেছে এই লাভ লক। প্রেমিক-প্রেমিকারা মনে করেন, তাদের ভালোবাসা মহাপ্রাচীরের মতোই টেকসই হবে।