নীলফামারীতে বন্যায় কৃষিতে ক্ষতি ২৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা

তিস্তার বন্যায় নীলফামারীতে ডিমলা উপজেলায় কৃষিতে ২৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। তবে জলঢাকা উপজেলায় বন্যা কবলিত ইউনিয়ন গুলোতে ফসলের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে কৃষি দপ্তর।  

গত বৃহস্পতিবার তিস্তার পানি বিপদসীমা অত্রিক্রম করলে নীলফামারী ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।

শনিবার সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এতে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ও শৌলমারী ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেষ্টিত প্রায় ১৫ টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। 

রোববার থেকে নদীর পানি ধীরে ধীরে কমে বুধবার সন্ধ্যা  ৬টা পর্যন্ত বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। তিস্তা ব্যারাজের নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির বিপদসীমা ৫২  মিটার ৬০ সেন্টিমিটার।

 কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর নীলফামারী সূত্র জানায়, তিস্তার বন্যায় জেলার ডিমলা উপজেলায় এক হাজার ৫৭৫ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এসব কৃষকরে ১১৩ বিঘা বীজতলাসহ ২২৫ বিঘা ফসলি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়া এসব কৃষকের ২৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত অন্যান্য ফসলের মধ্যে রয়েছে, পাট, আউশ ধান ও শাকসবজি। জলঢাকা উপজেলার বন্যা কবলিত দুটি ইউনিয়নে কোনো ফসলের ক্ষতি হয়নি।  

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও রোপা আমন বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা তাদের বীজতলা নিয়ে বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবুল কাশেম আযাদ বলেন, ‘বন্যায় ডিমলা উপজেলার চরখড়িবাড়ি, পূর্ব খড়িবাড়ি, ছোট খাতা, ডালিয়া, ঝাড়সিংহেশ্বর ও ঝুনাগাছ  গ্রামের এক হাজার ৫৭৫জন কৃষকের ১১৩ বিঘা আমন বীজতলাসহ ২২৫ বিঘা জমির ফলের ক্ষতি নিরূপন করা হয়েছে। এতে কৃষকদের ২৪ লাখ ৩৯ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।’