‘অপকর্ম ধামাচাপা দিতেন রুহুল-মকসুদ’

ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক খুজিস্তা খানম, আয়া বেবি রানি দাস, আলিম পরীক্ষার্থী আকলিমা আক্তার ও কায়সার মাহমুদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাফেজ আহাম্মদ বলেন, মঙ্গলবার আদালত মামলাটির ২২ থেকে ২৫ নম্বর পর্যন্ত সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে প্রভাষক খুজিস্তা খানম বলেন, অধ্যক্ষ সিরাজ সাইক্লোন শেল্টারের তিনতলায় নিজের অফিস স্থানান্তরের পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। বিষয়টি নিয়ে মাঝেমধ্যে আমি প্রতিবাদ করতাম। তখন তিনি আমাকে হেনস্তা করতেন। খুজিস্তা বলেন, এ ধরনের ঘটনায় কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আলম এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন সব সময় সিরাজের পক্ষ নিতেন এবং ধামাচাপা দিতেন। তিনি নুসরাতের আরেক সহপাঠীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গত বছর নুসরাতের ওই সহপাঠীকে সিরাজ যৌন হয়রানির চেষ্টা করলে তখনই প্রতিবাদ করতে চায় সে। কিন্তু তখনো রুহুল-মকসুদ এক হয়ে সিরাজের পক্ষ নিয়ে তা ধামাচাপা দেন।

আরেক সাক্ষী নুসরাতের সহপাঠী আকলিমা আদালতকে বলেন, ৬ এপ্রিল আমি ৯টা ৪০ মিনিটে ৯ নম্বর কক্ষে পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ৯টা ৪৫ মিনিটে স্যার খাতা দিয়েছেন। আমরা বৃত্ত ভরাট করছিলাম। ১০টা বাজার একটু আগে উম্মে সুলতানা পপি ব্যস্ত ভঙ্গিতে হলে প্রবেশ করে। কিছুক্ষণ পর বাইরে ‘আগুন’ ‘আগুন’  বলে চিৎকার শুরু হলে আমরা সবাই বাইরে যাই। কিন্তু পপি বের হয়নি। সে হলেই বসা ছিল। আরও কিছুক্ষণ পর পপি বলে, নুসরাত নিজেই তার শরীরে আগুন দিয়েছে। এরপর পপি যথারীতি পরীক্ষা দেয়।

গতকাল নুসরাতের আরেক সহপাঠী কাওসারেরও সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু, কামরুল হাসান, ফরিদ উদ্দিন নয়ন ও আহসান কবির বেঙ্গল সাক্ষীদের জেরা করেন।

রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষে ছিলেন হাফেজ আহাম্মদ, এ কে এস ফরিদ আহাম্মদ হাজারী ও এম শাহজাহান সাজু। বুধবার শুনানিকালে মামলার ১৬ আসামি আদালতে হাজির ছিলেন।