পরিচয় না জানা তরুণীটি অন্তঃসত্ত্বা

মাথার কাছে কয়েকটি পোঁটলা নিয়ে খোলা চৌকির ওপর শুয়ে কাতরাচ্ছে আনুমানিক ২৫ বছর বয়সের একটি যুবতী। পরনে ছেঁড়া ময়লা কাপড়। কালো মলিন চেহারায় ক্ষুধার ছাপও স্পষ্ট। তাকে ঘিরে থাকা উৎসুক জনতার কেউ একজন দুটি পাউরুটি তুলে দিলেন হাতে। কোনো দিকে না তাকিয়েই রুটি দুটি শেষ করল সে। পরে তাকে স্থানীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কেন্দ্রে নিয়ে গেলে জানা যায়, যুবতীটি মানসিক ভারসাম্যহীন এবং ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

গত বুধবার টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া বাসস্ট্যান্ডের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়েটি এখন উপজেলা সমাজসেবা অফিসের হেফাজতে রয়েছে। পরিচয় পাওয়া না গেলে তার আপাতত আশ্রয় হবে গাজীপুরের পুবাইলে আশ্রয়কেন্দ্রে।

উপজেলার মাইস্তা গ্রামের জমশেদ আলী জানান, গত দুদিন ধরে মেয়েটি এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। মানুষের কাছে খাবার চাচ্ছে আর সে যে গর্ভবতী হয়েছে এটা দেখাচ্ছে সবাইকে। তবে সে তার নাম পরিচয়, ঠিকানা কিছুই বলতে পারছে না। কীভাবে অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে তাও বলতে পারছে না সে।

টাঙ্গাইল জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান আজাদ বলেন, মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ার সুযোগ নিয়ে মানুষ নামক কোনো পশুর দ্বারা ধর্ষিত হয়ে সে গর্ভবতী হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের ঘটনা সমাজে প্রতিনিয়তই ঘটছে। অপরাধীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দিলে এ ধরনের ঘটনা কমবে। 

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকুর মাহমুদের সহযোগিতায় মেয়েটিকে আমাদের হেফাজতে নিয়েছি। কালিহাতী থানায় জিডি করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় থানায় জিডি করার পর গর্ভবতীকে গাজীপুরের পুবাইলে আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে প্রসবের পর বাচ্চাটিকে এতিমখানায় লালন পালনের জন্য দেওয়া হয়।

মেয়েটির বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেব। এর মধ্যে মেয়েটির পরিচয় পেলে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।