মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড বাংলাদেশ হাট সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগ জায়গায় পিচ উঠে গেছে। অসংখ্য বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সামন্য বৃষ্টি হলেই পায়ে হাঁটা পর্যন্ত দুষ্কর হয়ে পড়ে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানচলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
গত মঙ্গলবার এ সড়কটি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। বড় বড় গর্ত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলে প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।
এ সড়ক দিয়ে মানিকগঞ্জ থেকে সাটুরিয়া রোডে অটো রিকশা চলাচল করে। তাছাড়া ঘিওর ও দৌলতপুর উপজেলার প্রতিদিন ২০-২২ হাজার মানুষ চলাচল করে। তাছাড়া মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড ও মার্কেট থাকায় এসব স্থানে বাণিজ্যিক ভবন তৈরি হয়েছে। এসব স্থানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করে। সড়কটি চলাচলের অযোগ্য থাকায় খুব ধীরগতিতে যান চলাচল করছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডÑ বাংলাদেশ হাটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়ে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতাল, নির্মাণাধীন কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মানিকগঞ্জ দেবেন্দ্র কলেজসহ নানা কারণে অত্যন্ত ব্যস্ত থাকে সড়কটি। বছরের পর পর এমন দুর্ভোগ থাকলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই।
তাছাড়া এই সড়ক দিয়ে বাংলাদেশ হাট, তিল্লি, মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া উপজেলার একাংশ এলাকার উৎপাদিত ফসল ও সবজি হাট বাজারে নিতে হয়। সড়কটি চলাচলের অযোগ্য থাকায় কৃষকদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে।
মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়া সড়কে সিএনজি চালক শহর আলী বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সিএনজি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় আমরা এ সড়ক ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এ সড়কটি খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
সাটুরিয়া সৈয়দ কালুশাহ বিশ^বিদ্যালয় কলেজের সমাজবিজ্ঞানের প্রভাষক শামিম আরা বলেন, আমি নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করে থাকি। সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হলেও মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই।
এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ইশরাফিল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি আগামী সমন্বয় সভায় তুলে ধরব।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ২০১৫ সালে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ করা হয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত শত শত যানবাহন চলাচল করার সড়কটি ৪ বছর পর খানাখন্দে ভরে গেছে। সাড়ে ৬ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি ১৯-২০ অর্থবছরেই সংস্কারকাজ শুরু করতে পারব।