মিন্নির রিমান্ড

তদন্তাধীন বিষয়ে হস্তক্ষেপ নয় : হাইকোর্ট

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্তে হাইকোর্ট কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলে জানিয়েছে একটি বেঞ্চ। এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সাক্ষী রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আদালতের নজরে আনা হলে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ কথা জানায়।

প্রকাশিত সংবাদ আদালতে উপস্থাপন করে ফারুক হোসেন নামে একজন আইনজীবী এদিন বলেন, বাদীর সবচেয়ে আস্থাভাজন হিসেবে মিন্নিকে ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে। অথচ তাকে ১২ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করে আদালতে তোলা হয়। আদালত ৫ দিনের রিমাণ্ড দিয়েছে। এ বিষয়টি উচ্চ আদালতের দেখা উচিত। এমনকি তার পক্ষে কোনো আইনজীবীও দাঁড়াচ্ছে না।

বেঞ্চটির জ্যেষ্ঠ বিচারক তখন বলেন, ‘পুলিশ তদন্ত করছে। এটাতে আমরা ইন্টারফেয়ার করতে পারি না।’

আইনজীবী ফারুক তখন বলেন, ‘তদন্ত হবে। কিন্তু সে (মিন্নি) তো সাক্ষী। তাকে রিমাণ্ডে নেওয়া হয়েছে।’

বিচারক তখন বলেন, ‘সে তো এখন গ্রেপ্তার। পুলিশ বলছে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে। এখন আপনার কিছু করার থাকলে ফৌজদারি নিয়ম মেনে করুন। প্রপার চ্যানেলে আসুন। আমরা তদন্তে ইন্টারফেয়ার করতে পারি না।’

পরে আইনজীবী ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আদালতের কাছে বলেছি, এ মামলার চার্জশিটভুক্ত পাঁচ আসামিকে এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। সেখানে মামলার ১ নম্বর সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাকে রিমাণ্ডে নেওয়ার কারণে মামলাটি অন্যদিকে চলে যেতে পারে। এ কারণে আমি বিষয়টি আদালতের নজরে এনেছিলাম।’

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে বহু পথচারীর সামনেই রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির প্রচেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে দেশব্যাপী আলোড়ন তৈরি হয়। পরদিন রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন, যাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকেই। কিন্তু এরপর গত শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে পুত্রবধূর বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন দুলাল শরীফ। এরপর মঙ্গলবার সকালে এক আসামিকে শনাক্ত এবং জবানবন্দি নেওয়ার কথা বলে মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ লাইনসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত নয়টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর কথা জানান পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন। পরদিন বুধবার মিন্নিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।