কয়েকদিন আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিকিৎসকদের এক অনুষ্ঠানে সাপ নিয়ে তার অস্বস্তির কথা বলেছিলেন। এরপর থেকেই তার নিরাপত্তা নিয়ে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এমনকি সাপের আতঙ্ক তাড়াতে তার জন্য হাজির করা হয়েছে সাপুড়েকেও।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বৃহস্পতিবার কলকাতার বানতলা চামড়া শিল্প এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর করতে আসেন মমতা। তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে মঞ্চসহ আশপাশে সব জায়গায় সাপুড়ে তল্লাশি করে দেখেন, কোথাও কোনো সাপ আছে কিনা।
এ কাজের জন্য নিয়ে আসা হয় সুন্দরবনের ঝড়খালি থেকে বন দপ্তরের তিনজন সাপ-শিকারিকে।
সম্প্রতি এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসকদের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, প্রচণ্ড গরমে এবং বর্ষার সময় মাঠঘাটে সাপের উপদ্রব বাড়ে। এ জন্য তিনি কৃষকদের বিশেষ ধরনের জুতো ব্যবহারের কথাও বলেন।
ইলিয়ট পার্কে হাঁটতে গিয়ে বেশ কয়েকবার সাপ দেখেছেন বলেও ওই অনুষ্ঠানে তিনি জানান। এমনকি সাপের উপদ্রবে তিনি ওই পার্কে হাঁটাও বন্ধ করে দেন।
বানতলায় অনুষ্ঠানস্থলের মাঠের আশপাশে বড় বড় ঘাস এবং অনেক ঝোপঝাড় রয়েছে। এ জন্য কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতে চায়নি স্থানীয় প্রশাসন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুন্দরবনসহ এসব এলাকায় কেউটে, গোখরো, কালাচ, চন্দ্রবোড়া সহ বিভিন্ন ধরনের সাপের উৎপাত রয়েছে।
তাই মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কোনো ত্রুটি না রাখতে এ দিন সাপুড়েদের নিয়ে আসা হয়েছিল। স্নেক ক্যাচার স্টিক ও সাপ ধরার অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে হাজির ছিলেন তারা।
এক সাপুড়ে সম্রাট মালি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী আসবেন বলে আমাদের বন দপ্তর থেকে আনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সভাস্থল ছাড়াও আশপাশে সাপ আছে কিনা তা আমরা তা খতিয়ে দেখেছি। সাপ দেখতে পেলেই তা ধরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে।’’
সাধারণত কোনো অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তায় হাজির থাকে ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য দপ্তর, ব্লাড ব্যাংক-সহ প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিট। এবার মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা গেল বন দপ্তরের সাপ-শিকারি ও সর্প বিশেষজ্ঞদের।
এ ব্যাপারে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা বন বিভাগের ডিএফও সান্তোষা জিআর বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর ওই অনুষ্ঠানের আগে ওই এলাকায় সাপ দেখা গিয়েছিল বলে আমাদের জানানো হয়। সেই মতো আমাদের কর্মীদের ওই এলাকায় পাঠানো হয়।’’