অর্থনৈতিক অস্থিরতার এক দশক এখনো অতিক্রম করতে পারেনি ইউরোপ। কিন্তু এখনই কোনো পাল্টা পদক্ষেপ না নেওয়া হলে ইউরোপ খুব জলদি আবারও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদরা। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের ১০ বছর পর ইউরোপের অর্থনীতি ধাক্কা কিছুটা সামলে উঠতে পারলেও ক্ষত সারেনি। কম মুদ্রাস্ফীতি, কম সুদের হার ও নিম্ন প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক বিষয়ে দাঁড়িয়েছে এখন।
ইউরোপের এই অর্থনৈতিক অস্বাচ্ছন্দ্য বিপজ্জনক মোড় নিতে পারে। ওই অঞ্চলের শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মধ্যকার ব্যবধান ক্রমশ বিভক্তি তৈরি করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ইউরোপের অনেক তরুণকে কর্মসংস্থানহীন হয়ে যেতে হচ্ছে। জার্মানির অর্থনীতিবিদ কার্স্টেন জেস্কি মনে করেন, ১৯টি দেশের মধ্যকার প্রচলিত অভিন্ন মুদ্রাব্যবস্থা ইউরো ভেঙে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘এমন ঝুঁকি সর্বোচ্চ, আমরা যদি এখনো না বুঝি আর খুব বেশি সময় নিয়ে ফেলি তাহলে হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।’
১৯৯০ সালের জাপানের অর্থনৈতিক শিথিল অবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে বর্তমান ইউরোপকে। ২০১৮ সালের শেষের দিক থেকে ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংকের (ইসিবি) ধার্য করা মুদ্রাস্ফীতিকে ২ শতাংশের নিচে রাখার টার্গেট পূরণ হয়নি। গত জুনে মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়ায় ১ দশমিক ৩ শতাংশে। ২০১৮ সালে ইউরোপের জাতীয় প্রবৃদ্ধি ছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ, কিন্তু চলতি বছরের শেষে তা ১ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরবর্তী বছরে এই অবস্থার আরও অবনতির আশঙ্কাও করা হচ্ছে, যদি ব্রেক্সিট নিয়ে সংকট আরও বাড়ে।
সুদের হার ইতিহাসের রেকর্ড পরিমাণ কম এখন। ইসিবি প্রেসিডেন্ট মারিও দ্রাঘি আগামী অক্টোবরে ক্ষমতা ছাড়বেন। আট বছরের ক্ষমতায় তিনি একবারও সুদের হার বাড়াতে পারেননি। কিছু বিশ্লেষকের অনুমান, আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ ব্যাংক সুদের হার আরও কমাতে পারে।
২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ২৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন, যা এখন আছে ১৫ দশমিক ৭ মিলিয়নে। কিন্তু স্পেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, গ্রিস ও ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের অবস্থা এখনো ভয়াবহ খারাপ। ওই দেশগুলোতে এখনো ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় বেকারত্বের হার সর্বাধিক। সর্বশেষ ২০১১ সালে ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়েছিল। তখন পর্তুগালের ঋণের হার অনেক কমে যায় ও গ্রিস নতুন বেলআউটের প্রতীক্ষা করে।