রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌর নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। একাধিক খুনের মামলার আসামি ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পাওয়ায় এমনিতেই বইছে সমালোচনার ঝড়। তার ওপর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও প্রার্থীর সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থীরা।
আগামী বৃহস্পতিবার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনের ভোট। এখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। এ নির্বাচনে কাঞ্চন পৌর যুবলীগের সভাপতি আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আছেন বর্তমান মেয়র কাঞ্চন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা, কাঞ্চন পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত সাবেক মেয়র কাঞ্চন পৌর বিএনপির সহসভাপতি মজিবুর রহমান ও জেলা যুবদলের সহসভাপতি আইনজীবী আমিরুল ইসলাম ইমন।
দেওয়ান আবুল বাশার বাদশা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রচার চালাতে গিয়ে পদে পদে বাধা দেওয়া হচ্ছে আমার লোকজনকে। মাইক ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চারটি খুন, জোর করে মানুষের জমিতে বালু ভরাটসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকা-ের অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু ভোট হলে এবারও জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। গত ৫ বছরে রাস্তাঘাট, পার্ক, জলাবদ্ধতা নিরসন, পয়ঃনিষ্কাশন, তিন তলা পৌর ভবন নির্মাণসহ ৫০ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ করেছি।
কাঞ্চন পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত সাবেক মেয়র কাঞ্চন পৌর বিএনপির সহসভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘নির্বাচনে সরকারি দলের লোকজন প্রভাব বিস্তার ও হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। প্রচারে বাধা পাচ্ছি। যেখানেই যাচ্ছি ভোটারদের সাড়া পাচ্ছি। ভোটাররা ভোট দিতে পারলে আমার জয় সুনিশ্চিত হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, দলের গ্রুপিংয়ের কারণে রাজনৈতিকভাবে আমাকে হত্যার মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ কারণে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না। ঘরে ঘরে যাচ্ছি, জনগণের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এবার বিপুল ভোটে জয়লাভ করব আশা করছি।
প্রচারে বাধাদানের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি তবে লিখিতভাবে কেউ জানায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। কোনো সহিংসতার আশঙ্কা এখন পর্যন্ত নেই।
উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে চার প্রার্থী ছাড়াও ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৩৩ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৬ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। পৌরসভায় মোট ভোটার ৩৫ হাজার ৬৭৫ জন।