যুক্তরাষ্ট্রে স্থবির চীনা বিনিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে বাণিজ্যযুদ্ধ। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে চীনের বিনিয়োগ প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে। ফলে অতীতে বিনিয়োগকৃত বিপুল পরিমাণ চীনা অর্থ প্রায় স্থবির হয়ে আছে দেধ।

বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়ায় চীনের যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অথচ এই চীনা বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি, ম্যানহাটন রিয়েল এস্টেট ও রাজ্য সরকারগুলো বিগত বছরগুলোতে ব্যাপক দেনদরবার করেছিল। কিন্তু বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দুই দেশের বিনিয়োগ খাতে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে এক বিশ্লেষণাত্মক প্রতিবেদনে জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের চীন শাখার সাবেক প্রধান ঈশ্বর প্রসাদ বলেন, ‘বাস্তবতা হলো সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ দ্রতগতিতে কমে যাওয়াই বলে দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক কতটা খারাপের দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনকে বিশ্বাস করে না। আর চীনও যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না।’

কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের গাড়িনির্মাণ, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও কৃষি খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে চীন। এই বিনিয়োগের ফলে মিশিগান, সাউথ ক্যারোলিনা, মিসৌরি, টেক্সাস ও অন্য রাজ্যে অনেক নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি হয়। চীনের অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সরকার ও কোম্পানিগুলোরও প্রবৃদ্ধি বাড়তে থাকে। কিন্তু এখন বিনিয়োগের টানাপড়েনে ক্রমেই সেই প্রবৃদ্ধি কমছে। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বিনিয়োগ ছিল ৪৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু ২০১৮ সালে তা কমে মাত্র ৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। রোডিয়াম গ্রুপের করা পরিসংখ্যান মতে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বিনিয়োগ কমেছে ৮৮ শতাংশ। চলতি বছরের এপ্রিলে চীনের কোম্পানিগুলো অতীতের তুলনায় খুবই সামান্য বিনিয়োগ করেছে যুক্তরাষ্ট্রে, যার অর্থনৈতিক মূল্য প্রায় ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ সম্পর্কিত আইনজীবী রড হান্টার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজার উন্মুক্ত কি না এ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এখন সবেচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে। এতে চীনা বিনিয়োগকারীদের ওপরও প্রভাব পড়ছে, যা অস্বীকার করা যাবে না।’ অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কঠোর অবস্থানের কারণে চীন সরকারও তার ব্যবসায়ীদের ওয়াশিংটনে বিনিয়োগ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা আরোপ করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যত চীনা পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করবেন, চীনও তত বিনিয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে।

ট্রাম্প-শি দ্বন্দ্বে চীনের এইচএনএ গ্রুপের ৪২ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ম্যানহাটন রিয়েল এস্টেট কোম্পানিকেও তাদের সম্পদ বিক্রি করতে হয় কারণ চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রও অনেক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শুধু ম্যানহাটন রিয়েল এস্টেট নয়, আরও অনেক রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গত মে মাসের এক রিপোর্টে বলা হয়, চীনের রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানিকেই লোকসান সামলাতে সম্পদ বিক্রি করে দিতে হচ্ছে। অবশ্য চীনা আবাসন কোম্পানিগুলোকে অতটা লোকসান গুনতে হচ্ছে না। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ না করলেও আফ্রিকার বিশাল বাজার এখনো খোলা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য।