নতুন যুগে রপ্তানি খাত

বাংলাদেশের রপ্তানি খাত নতুন যুগে প্রবেশ করল উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নে পণ্য রপ্তানি করে জিএসপি সুবিধা পেতে এখন থেকে রপ্তানিকারকরাই স্টেটমেন্ট অফ অরিজিন সার্টিফিকেট ইস্যু করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এতদিন এ সার্টিফিকেট ইস্যু করত। রপ্তানিকারকদের সময় ও খরচ বাঁচাতে এ পদ্ধতি চালু করা হলো। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার চাহিদা মোতাবেক রপ্তানি বাণিজ্য সহজ করতেই এ পদ্ধতি চালু করা হলো।

রবিবার ঢাকায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সম্মেলন কেন্দ্রে প্রাথমিকভাবে ১০টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে রেক্স নম্বর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। রেক্স নম্বর প্রাপ্ত রপ্তানিকারক ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো জাবের অ্যান্ড জোবায়ের ফেব্রিক্স লি., রিফাত গার্মেন্টস লি., স্কয়ার ফ্যাশনস লিমিটেড, নোমান টেরিটাওয়েল মিলস লি., সি পার্ক (বিডি) লিমিটেড, চট্টগ্রাম, আকিজ জুট মিলস লিমিটেড, প্রাণ এগ্রো লিমিটেড, কারুপণ্য রংপুর লিমিটেড, মেসার্স ইউনিগ্লোরি সাইকেলস ইন্ডাস্ট্রিজ লি. এবং ইউনিভার্সেলস জিন্স লিমিটেড। পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ৬ হাজার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে এ রেক্স নম্বর প্রদান করা হবে।

টিপু মুনশি বলেন, ইলেক্ট্রনিক রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (রেক্স) চালুর ফলে রপ্তানিকারকরা নিজ দায়িত্বে এ সার্টিফিকেট ইস্যু করবে। এ ক্ষেত্রে সকল দায় ও দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারককেই বহন করতে হবে। তবে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো প্রয়োজনীয় তদারকির কাজ করবে। ১৯৭১ সাল থেকে বাংলাদেশ ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন থেকে এভ্রিথিংস বাট আর্মস স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ এলডিসিভুক্ত দেশ হিসেবে এ জিএসপি সুবিধা ভোগ করে আসছে। রেক্স চালুর ফলে অতি অল্প সময়ে নিজ দায়িত্বে রপ্তানিকারকরা ইউরোপীয় ইউনিয়নে পণ্য রপ্তানি করে জিএসপি সুবিধা ভোগ করতে পারবে। এ সুবিধার জন্য বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

দেশের সুনাম রক্ষা করে বাণিজ্য করার পরামর্শ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইতিপূর্বে রপ্তানি বাণিজ্যে জালিয়াতি করে বাংলাদেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। সে কারণে দেশের চিংড়ি রপ্তানি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। নিয়মের মধ্যে থেকে রপ্তানিকারকদের নিজ দায়িত্বে বাণিজ্য করতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে এর কোনো বিকল্প নেই।

অন্ষ্ঠুানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত ভাইস চেয়ারম্যান মো. সফিকুল ইসলাম, এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএর সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. সিদ্দিকুর রহমানসহ ব্যবসায়ী নেতারা রেক্স নম্বর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।