বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভাস্বর ব্যক্তিত্ব। তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় ও সফল নেতৃত্ব প্রদান। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে অনন্য অবদান রচনাকারী মেধাবী, পরিশ্রমী ও গণমনস্ক নেতা তাজউদ্দীন আহমদের ৯৪তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুরের কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
তার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আজ বিকেল ৪টায় জাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা, তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি ও দিনপঞ্জি থেকে পাঠ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুলতানা আক্তার এবং সুহান রিজওয়ানের। তাজউদ্দীন আহমদের চিঠি ও দিনপঞ্জি থেকে পাঠ করবেন তাজউদ্দীন আহমদ পাঠচক্রের সদস্য শারমীন শরীফা, বুশরা মোম ও রুকুনুল হাসান। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করবে আগারগাঁও আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় ও ভাসানটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।
মৌলভী মো. ইয়াসিন খান ও মেহেরুননেসা খানমের সন্তান তাজউদ্দীন ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন অস্থায়ী বাংলাদেশ বা মুজিবনগর সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে। সৎ ও মেধাবী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত তাজউদ্দীন আহমদকে দেশের মানুষ ভালোবেসে ডাকত ‘বঙ্গতাজ’। পাকহানাদারদের কাছ থেকে দেশ মুক্ত হলে ২২ ডিসেম্বর তাজউদ্দীন আহমদ, সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ফিরে এলে তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান। বঙ্গবন্ধুর সরকারে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯৭৩ সালে ঢাকা-২২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় বাজেট পেশ করেন।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর তিনজন জাতীয় নেতাসহ তাকে বন্দি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঘাতকের বুলেটে নিহত হন তাজউদ্দীন আহমদ।