প্রায় ১৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার আসামি সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জন তাওহীদুর রহমানসহ ৯ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক দুই পরিচালকের বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, পুলিশের বিশেষ শাখার বিশেষ পুলিশ সুপারের (ইমিগ্রেশন) কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, গতকাল কমিশনের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে সাতক্ষীরার সাবেক সিভিল সার্জনসহ ৯ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মামলার এসব আসামি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছেন বলে দুদক বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছে। তাই তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন। গত ৯ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা করেন প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক জালাল উদ্দিন।
তাওহীদুর রহমান ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেনÑ সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ভাণ্ডাররক্ষক ফজলুল হক, হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেন, মেসার্স বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানির মালিক জাহের উদ্দিন সরকার, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর আবদুর ছাত্তার সরকার, আহসান হাবিব ও আসাদুর রহমান, মাদারীপুরের আবু বকর সিদ্দিক এবং নিমিউ অ্যান্ড টিসির অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী এ এইচ এম আবদুল কুদ্দুস।
পিপলসের তিনজনের নামে নিষেধাজ্ঞা : গতকাল পিপলস লিজিংয়ের সাবেক তিন কর্মকর্তার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ইমিগ্রেশন পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল হক। তারা হলেনÑ প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান এম. মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক পরিচালক বিশ্বজিৎ কুমার রায় ও সাবেক পরিচালক মো. খবির উদ্দিন মিয়া। মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে। এ ছাড়া পিপলসের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি বিশ্বজিৎ রায় ও ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট খবির উদ্দিনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্টন থানায় মামলা করে দুদক।