মাছ সবজির চড়া, কমেছে পেঁয়াজের দাম

সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর পাইকারি বাজারগুলোতে কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। তৃতীয় ধাপে আরও ৫ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪০ টাকায়, আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৩৫ টাকাতে। পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও এখনো দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে রসুন, কাঁচামরিচ ও সবজি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও বন্যা এবং স্থানীয় বাজারে মজুদ সংকটের কারণে কাঁচামরিচ ও সবজির দাম বেড়েছে। গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, সেগুনবাগিচা, মোহাম্মদপুর ও হাতিরপুল অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানভেদে দেশি পেঁয়াজের পাল্লা (৫ কেজি) ২০০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ২১৫ টাকা থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও রসুনের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায়।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে জানতে চাইলে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত দুই-তিন সপ্তাহ ধরে ৫৪ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি করেছি। তিন দফায় দাম কমে সোমবার তা ৪০ টাকা কেজি বিক্রি করছি। এ হিসাবে প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে ১৫ টাকা।’

এদিকে পেঁয়াজের দাম কমলেও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। দ্বিগুণ হওয়া কাঁচামরিচের দাম সপ্তাহের ব্যবধানে আরও বেড়েছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। বাজারভেদে পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, যা দুই সপ্তাহ আগেও ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। ৭০ টাকার গাজার বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। পটোল বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ছিল ২০ থেকে ৩০ টাকা। এছাড়া ঝিঙ্গা, ঢেঁড়স, উচ্ছে ও ধুন্দুলের দাম কেজিতে ১০-২০ টাকা বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সবজি ও কাঁচামরিচের বাড়তি দামের বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিরপুলের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সারা দেশে এখন প্রচুর বৃষ্টি, আবার কোনো কোনো অঞ্চলে বন্যা হচ্ছে। আমরা সঠিক সময়ে মালামাল পাচ্ছি না। এছাড়া মৌসুম না থাকায় কিছু সবজি এমনিতেই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বৃষ্টি-বন্যা কমে এলে সবজির বাজার স্বাভাবিক হবে।’

ইস্কাটনের খুচরা সবজি বিক্রেতা আবুল কালাম বলেন, ‘সারা দেশে বন্যার কারণে পাইকারি আড়তে সব সবজির দাম বাড়তি। তাছাড়া দাম বাড়লেও আমাদের কোনো লাভ নেই, কমলেও আমাদের লাভ নেই। যেমন কেনা তেমন বেচা।’

মাংসের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি আগের সপ্তাহের মতো ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল লেয়ার মুরগি। গরুর মাংস বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকায় এবং খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি।

এদিকে রমজান মাস থেকে চড়া দামে বিক্রি শুরু হওয়া মাছের দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। রুই মাছ (বড়) প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা, ছোট ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কাতল (বড়) ৪৫০ এবং ছোট প্রতি কেজি ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া আগের মতোই বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি। পাঙাশ প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৮০, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০, টেংরা ৫০০ থেকে ৮০০, শিং ৫০০ থেকে ৬০০ এবং চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে।