খোলা আকাশের নিচে শিক্ষকদের ৩৭ দিন

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে গত ৩৭ দিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আন্দোলনে প্রায় অর্ধশত নারী শিক্ষক ও তাদের অনেকের সঙ্গে রয়েছে শিশু। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কয়েকজন শিক্ষক এরই মধ্যে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের কারণে হাসপাতালে ভর্তি। একজন মারাও গেছেন। এ অবস্থায় শিশুসহ সবাই রয়েছেন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। অথচ দাবি পূরণে মিলছে না কোনো আশ্বাস।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বেশ কিছু নারী শিক্ষকের সঙ্গে থাকা শিশুদের তীব্র রোদের মধ্যে পলিথিনের ছাউনির নিচে ধুলাবালির মধ্যে খালি গায়ে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তাদের শরীর থেকে টপটপ করে ঝরছে ঘাম। ঠিকঠাক খাওয়া-গোসলও হচ্ছে না। গরম সহ্য করতে না পেরে কখনো কখনো চিৎকার করছে।

বরগুনার বিলকিস আক্তার নামে এক শিক্ষক বলেনÑ ‘কী করব? শিক্ষকতা করে পেটে ভাত নেই, তাই বাধ্য হয়ে ঘর ছেড়ে রাজপথে।’ তিনি বলেন, ‘দুধের শিশুকে রেখে আসা সম্ভব নয় বলে নিয়ে এসেছি। সারা দিন সন্তানকে আমার সঙ্গে রোদ আর নোংরা পরিবেশে রাস্তায় থাকতে হচ্ছে। দাবি আদায় ছাড়া বাড়ি ফিরে যাব না। নিজের জীবন শেষ হয়ে গেলেও আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

শিশুরাই নয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছেন সবাই। এ পর্যন্ত ২৪৮ শিক্ষক অসুস্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

ডায়রিয়া ও কলেরায় আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন। বাংলাদেশ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি মামুনুর রশিদ খোকন বলেন, ‘টানা ৩৭ দিন ধরে আমরা ফুটপাতে বসে আন্দোলন করছি। আন্দোলনে আসা ফরিদপুর জেলার মধুখালী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন অসুস্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা গেছেন। পর্যায়ক্রমে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছি। তবুও দাবি পূরণে কোনো দৃশ্যমান আশ্বাস পাইনি। আমাদের সঙ্গে চরম অন্যায় হচ্ছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ থেকে বাদ পড়া প্রায় চার হাজার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। তার মধ্যে ১ হাজার ৩০০টির মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য যাচাই-বাছাই করা হলেও এখন পর্যন্ত সেটা বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।