মশার ওষুধের কার্যকারিতা

গবেষণায় নমুনা নেওয়া হয়নি ডিএসসিসির : মেয়র

রাজধানীতে মশার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের গবেষণায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নমুনা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নিজ দপ্তরে এক সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সিডিসিপি ও আইসিডিডিআর-বির গবেষণায় ঢাকা দক্ষিণে মশা নিধনে ব্যবহৃত

ওষুধের নমুনা নেওয়া হয়নি। ওষুধ আংশিকভাবে কার্যকর কিংবা অকার্যকর এটি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনা রয়েছে। বিষয়টি নিরসনে সরকারি প্রতিষ্ঠান রোগতত্ত্ব, নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ওষুধ সরবরাহ করবেন বলে জানান মেয়র।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোধে মশা নিধনের জন্য ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আইসিডিডিআরবির সহযোগী বিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম মেয়রের এ তথ্য সঠিক নয় বলে জানান। পরে রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা সব প্রটোকল মেনেই গবেষণাটি করেছি। এখানে সিটি করপোরেশনের নমুনা নেওয়া হয়নি; বিষয়টি সঠিক নয়।’ এ বিষয়ে আজ গণমাধ্যমে বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানীরা গত বছর মশার ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করেন। তারা দেখেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মশার যে ওষুধ ছিটানো হয়, তাতে ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহক এডিস মশা মরে না। এ বিষয়ে গবেষণা করে রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময় কেন্দ্রও (সিডিসিপি)।

গতকাল দুপুরে ডিএসসিসির মেয়র দপ্তরে ‘বিদ্যমান মশার ওষুধের কার্যকারিতা এবং মশক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নতুন ওষুধ নির্ধারণবিষয়ক সভা’ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সাঈদ খোকন। তিনি বলেন, আইসিডিডিআরবি যে প্রতিবেদন দিয়েছে তা আমলে নেওয়ার সুযোগ ডিএসসিসির নেই। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইইডিসিআর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলে সে ওষুধ আমরা ব্যবহার করি। এ অবস্থায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধের নমুনা আইইডিসিআরে পাঠিয়ে দেব। যদি ওষুধের একটা অংশ অকার্যকর থাকে এবং তা হলে তার পরিবর্তে কোন ওষুধ ব্যবহার করা যায়Ñ সেটা তারা আমাদের জানাবেন। তাদের পরামর্শ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন নিয়ে তা ব্যবহার করব।’

মেয়রের বক্তব্যের পর আইসিডিডিআরবির ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, ‘আমরা দেখেছি এডিস মশা পারমেথ্রিনের পুরোপুরি রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে। এটি যেহেতু অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আর এটাই রেজিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে সে হিসেবেই আমরা প্রতিবেদনটি দিয়েছি।’ এ সময় মাইক্রোফোন নিয়ে সাঈদ খোকন বলেন, ‘ডিএসসিসির ওষুধের নমুনা নিয়ে তারা গবেষণা করেনি। তারা তাদের মতো করে একটি এজেন্ট নিয়ে গবেষণা করেছে। যে বিভ্রান্তিটা ছড়িয়েছে, সিটি করপোরেশন যে ওষুধ ব্যবহার করছে সেটা সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর।’

সভায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক ডা. সানিয়া তহমিনা, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের পরিচালক এ জেড এম ছাব্বির ইবনে জাহান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার, ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শরীফ আহমেদ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমোডর মো. জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।