চট্টগ্রাম বন্দরে যন্ত্রপাতির বদলে এলো জাহাজ ভর্তি বিদেশি মদ

চট্টগ্রাম বন্দরে যন্ত্রপাতি ঘোষণায় আনা জাহাজ ভর্তি বিদেশি মদের বিরাট চালান আটক করেছে কাস্টমস।

বুধবার সকালে পরীক্ষার পর মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত হবার পর চীন থেকে আসা এম ভি কিউ জি শান নামের জাহাজে আনা চালানটির খালাস স্থগিত করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে জাহাজটি।

কাস্টমস সূত্র জানায়, চায়না-বাংলাদেশ পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের যন্ত্রপাতি ঘোষণায় এমভি কিউ জি শান নামের একটি জাহাজ গত ৯ জুলাই চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে আসে। জাহাজ জটের কারণে প্রায় ৯ দিন পর জাহাজটি পণ্য নিয়ে বন্দরের তিন নম্বর বার্থে ভিড়ে। এখান থেকে পণ্যগুলো পায়রা বন্দর নিয়ে যাবার কথা ছিল।

মঙ্গলবার বিকেলে জাহাজ থেকে লাইটারেজ জাহাজ ও বার্জে পণ্য খালাস চলাকালে ওই জাহাজে বিদেশি মদ ও বিয়ার আনার গোপন তথ্য পায় কাস্টমস। এর পরপর কাস্টমস এর একটি দল সেখানে পৌঁছে। তার আগেই খালাসকৃত বেশ কিছু কার্টুন নিয়ে  দু’টি লাইটারেজ জাহাজ পায়রার উদ্দেশে রওনা দেয়। কাস্টমস টিম গিয়ে একটি বার্জে নামানো ১৯টি কার্টুন পায়। এরপর প্রাথমিকভাবে কয়েকটি কার্টুন খুলে মিথ্যা ঘোষণায় মদ আনার বিষয়টি নিশ্চিত হবার পর তারা জাহাজটি আটক করে এবং পণ্য খালাস স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়।

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের জয়েন্ট কমিশনার সাধন কুমার কুণ্ডু দেশ রূপান্তরকে বলেন, এম ভি জি শান নামে একটি জাহাজে চায়না-বাংলাদেশ পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড এর যন্ত্রপাতি আনার ঘোষণা ছিল। ওই জাহাজ থেকে খালাস করা ১৯টি কার্টন বুধবার সকালে কায়িক পরীক্ষার পর দেখা যায়, একটি ছাড়া বাকি ১৮টি কার্টনেই রয়েছে বিদেশি মদ। আপাতত ওই জাহাজ থেকে পণ্য খালাস স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। যন্ত্রপাতি ঘোষণায় আসা সবগুলো কার্টন কায়িক পরীক্ষার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইতিমধ্যে জাহাজটি থেকে পণ্য নিয়ে যে দু’টি লাইটারেজ জাহাজ পায়রার উদ্দেশে ছেড়ে গিয়েছিল সেগুলো ফেরত আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কাস্টমস এর একটি সূত্র জানায়, এমভি কিউ জি শান জাহাজটিতে যন্ত্রপাতি ঘোষণায় আনা ৬৬৯টি কার্টন ছিল। এর মধ্য থেকে কিছু কার্টন দু’টি লাইটারেজ জাহাজে খালাস করা হয়েছে। একটি বার্জে খালাস করা অবস্থায় পাওয়া গেছে ১৯টি কার্টন। অবশিষ্ট বিপুল পরিমাণ পণ্য এখনও জাহাজটিতে রয়ে গেছে।