গাইবান্ধায় ইজিবাইক চালকের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে ‘ছেলেধরা’ হিসেবে এক নারীকে শায়েস্তা করার ঘটনায় অল্পের জন্য গণপিটুনির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন মানসিকভাবে অসুস্থ এক নারী। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে ওই নারীকে বাঁচাতে উপস্থিত এক সাংবাদিক পুলিশে ফোন দিলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নারীটিকে উদ্ধার করে।
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ধাপেরহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ছেলেধরা সন্দেহে মানসিকভাবে অসুস্থ শ্যামলী নামের এক নারীকে বাজারের লোকজন ঘিরে ধরলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম পুলিশে খবর দিয়ে ওই নারীকে গণধোলাইয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে উদ্ধার করে বিকেলে তার পরিবারের হাতে তুলে দেয়।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র জানায়, শ্যামলী নামের ওই নারীর বাড়ি পার্শ্ববর্তী রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায়। আমিনুল ইসলাম স্থানীয় দৈনিক ঘাঘট পত্রিকার সাংবাদিক।
আমিনুল জানান, ইজিবাইকে করে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে শ্যামলী ধাপেরহাট বাজারে আসেন। এ সময় বাইকচালক ও শ্যামলীর মধ্যে ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। শ্যামলী ভাড়া দিচ্ছিলেন না বলে ইজিবাইক চালক বলেছেন ছেলেধরা নাকি, ভাড়া দিচ্ছে না। সেই কথা আশপাশের লোকজনের কানে গেলে তারাও ছেলেধরা ছেলেধরা বলে চিৎকার শুরু করে। এতে করে মুহূর্তেই শতাধিক লোক শ্যামলীকে ঘিরে ধরে মারমুখী হয়ে উঠতে থাকে।
তিনি জানান, উত্তেজিত মারমুখী জনতাকে কোন রকমে সামলে ওই নারীকে বাঁচাতে পুলিশকে ফোন করে ঘটনা জানালে, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্যামলীকে উদ্ধার করে।
তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) এস আই বাবুল বলেন, শ্যামলী ছেলেধরা নন। মানসিকভাবে অসুস্থ ওই নারীকে তার পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।