গান এখন মোবাইলবন্দি

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আঁখি আলমগীর। এখন স্টেজ শো এবং টিভি অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত। নতুন গানও করছেন নিয়মিত। সমসাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন এস হাসান

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

টিভি অনুষ্ঠান ও স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ততা বেশি। নতুন গান কম হচ্ছে এখন। তবে নতুন কয়েকটি গানের প্রস্তুতি নিচ্ছি। সেগুলোর মিউজিক ভিডিও আসবে।

এখনকার গান কি আগের মতো জনপ্রিয় হচ্ছে?

আগের মতো হচ্ছে বলা যাবে না। তবে ভালো গানও প্রকাশ হচ্ছে। সব শ্রেণির শ্রোতা তা পাচ্ছে এবং শুনছে কি না এটি একটি বড় প্রশ্ন। এটি স্পষ্ট বোঝাও যাচ্ছে না। কারণ গান এখন মোবাইলবন্দি হয়ে গেছে। একসময় বাড়িতে বড় সাউন্ড বক্সে গান শোনা হতো। বিশেষ কোনো উৎসবে মাইকে গান বাজানো হতো। এতে দূরের মানুষগুলো গান শুনতে পেত। এখন এটি আর দেখা যায় না। সে জন্য হয়তো গানের প্রচার সঠিকভাবে হচ্ছে না। এটিই হয়তো যুগের চাহিদা। এর ফলাফল কেমন সবাই বুঝতে পারছেন।

শ্রুতিমধুর কথা আর সুরেরও অভাব বোধ করেন?

তা তো বটে। গান হতে হবে চমৎকার কথার, যেটি শ্রোতার হৃদয়ে দাগ কাটে। সুর ও সংগীতায়োজনেও যতœবান হতে হবে সবার। কিন্তু এখন গানগুলোর কথা, সুর এমনকি সংগীত গতানুগতিক হয়ে গেছে। এ জন্য শ্রোতারা গানগুলো সেভাবে গ্রহণ করছে না।

দেশের বাইরে প্রচুর শো করেন। বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সংগীতের পার্থক্য কেমন?

পার্থক্য তো অনেক। শিল্পীরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা পান। শ্রোতারা উৎসব করে একজন শিল্পীর গান উপভোগ করে নিজ উদ্যোগে। শিল্পীরা তো অবশ্যই গান গাওয়া এবং তৈরিতে যত্নবান। বিদেশের শিল্পীরা আর্থিকভাবেও বেশ নিরাপদ। তাদের মূল শক্তি শ্রোতা। প্রিয় শিল্পীদের নিয়ে সেখানকার শ্রোতারা অনেক বেশি আগ্রহী।

এখন অনলাইনেই গান প্রকাশ হচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত জানতে চাই...

গান অনলাইনে চলে যাওয়া মানেই ভিউ বিষয় নিয়ে আলোচনা। একটি ভালো মিউজিক ভিডিওতে ভিউয়ার্স থাকবে এটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এ নিয়ে বাড়াবাড়ি কিংবা হইহুল্লোড় করার কিছু নেই। আমি এ নিয়ে ভাবি না। আমার গান যদি ভালো হয়, মানুষ এমনিতেই তা শুনবে, গাইবে এবং আমাকে স্টেজে গাইতে অনুরোধ করবে।