কুয়াকাটা সৈকতের অব্যাহত বালুক্ষয় ও ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ২শ’ নম্বর সিপি বালুর পরিবর্তে জিও টিউব ও জিও ব্যাগে ব্যবহৃত হচ্ছে সৈকতেরই বালু।
কলাপাড়া পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটার ভাঙনরোধে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে কুয়াকাটা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত ১৫৬০ মিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয় পাউবো। ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৪ মিটার প্রস্থ ৫৬টি জিও টিউব ও পিপি সাইজের ৮ হাজার পিস জিও বস্তা দিয়ে এ মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিটি জিও টিউবের রিভার সাইডে ২.৭৪ মিটার প্রস্থের দুটি করে জিও বস্তা এবং কান্ট্রি সাইডে ২.৭৪ মিটার উঁচু দুটি করে জিও বস্তা দিয়ে এ মেরিন ড্রাইভ সড়কসহ সৈকত সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। এমন শর্তাবলি ও নির্দেশনায় ১৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিজে জিও টেক্সটাইল লিমিটেডকে। চলতি বছরের ৩০ জুন এ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশনা ছিল।
সরেজমিনে প্রকল্প এলাকায় গেলে স্থানীয়রা জানান, ৫৬টি জিও টিউবের অর্ধেক জিও টিউবও এখন পর্যন্ত তৈরি করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যেসব টিউব তৈরি করা হয়েছে এর থেকে বালু বেরিয়ে যাওয়ার কারণে অধিকাংশ টিউবই নাজুক। ৮ হাজার জিও ব্যাগের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ জিও বস্তা তৈরি করা হয়েছে। এসব জিও ব্যাগে লোকাল বালু ভরার ফলে বস্তা থেকে বালু বেরিয়ে সৈকতের বালুতে মিশে গেছে। এলোমেলোভাবে জিও টিউব বসানোয় সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিজে জিও টেক্সটাইল লিমিটেড কোম্পানির প্রকল্প প্রকৌশলী আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ কাজ করার কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান দেশে নেই।’ মোটা বালুর পরিবর্তে সমুদ্রের বালু কেন দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে এ প্রকৌশলী বলেন, বালুর ট্রাক আসতে দেরি হওয়ায় হয়তো এমন হতে পারে।
লোকাল বালু দিয়ে কাজ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে পাউবোর কলাপাড়া সার্কেলের উপসহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারিকুর রহমান বলেন, জিও টিউবে পাইপ দিয়ে বালু ভরার সময় ৩০ ভাগ লোকাল বালু মিশ্রিত হলেও পানির সঙ্গে তা নেমে যাচ্ছে।’