জেলার রামগঞ্জ উপজেলার মধ্য করপাড়া গ্রামে বৃদ্ধ বাবা-মাতাকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ ও বসতঘর দখলে নিতে ভাড়াটিয়া লোক দিয়ে পাহারা বসিয়ে বসতঘরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।
এমনকি ঘরের দখল বুঝে নিতে বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে ছেলে সালেহ আহম্মেদ বাবুল স্থানীয় ইউপি কার্যালয়ে দিয়েছেন অভিযোগ। বসতঘরে তালা দেওয়ায় বৃদ্ধ বাবা-মা ৬ দিন ধরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধ্য করপাড়া গ্রামের কুমুর ডাক্তার বাড়ির ৮৩ শতাংশ সম্পত্তি কিনে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করে সন্তানদের নিয়ে ৪৮ বছর ধরে বাস করে আসছেন বৃদ্ধ মুনছুর আহমেদ (৮৫) এবং বৃদ্ধা দুলালী বেগম (৭০)। এ দম্পত্তির রয়েছে ৬ মেয়ে ও তিন ছেলে।
চলতি মাসের ২০ জুলাই তাদের বড় ছেলে সালেহ আহমেদ বাবুল এবং পুত্রবধূ কামরুন নেছা রুমী কয়েকজন ভাড়াটিয়া লোক এনে উক্ত বসতঘরের ৩টি কক্ষ ও বাথরুমে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে বসতঘর ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেন বৃদ্ধ বাবা-মাকে।
বৃদ্ধা মা দুলালী বেগম বলেন, বর্তমানে আমরা স্বামী-স্ত্রী ছাড়া বসতঘরে কেউ থাকে না। বয়সের কারণে বসতঘরের বাইরে গিয়ে বাথরুম এবং গোসল করা সম্ভব হচ্ছে না।
বড় ছেলে তার স্ত্রীর নির্দেশে বসতঘরে আমাদের থাকার রুমসহ বাথরুমে রুমে তালা লাগিয়ে দিয়েছে।
গ্রাম্য শালিসদার এটিএম নুরুজ্জামান মাস্টার বলেন, বৃদ্ধ মুনছুর আহমেদের বড় ছেলে সালেহ আহমেদ বাবুল ক্রয় সূত্রে উক্ত বসতঘরের মালিক হওয়ায় বাবুলের স্ত্রী ও সন্তানদের নামে রেজিস্ট্রি করে দেয়। বর্তমানে উক্ত বসতঘরে দুই বয়স্ক মানুষ ছাড়া অন্য কেউ বসবাস করেন না। ওই বসতঘরসহ সম্পত্তি ছেলের স্ত্রী ও সন্তানরা দখলে নিতে করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদালতে একটি আবেদন করেন।
ইউনিয়ন পরিষদ আদালত কাগজপত্র দেখে বসতঘরের দখল ছেড়ে দিতে আদেশ প্রদান করে।
বৃদ্ধ মুনছুর আহম্মেদ বলেন, ইউপি আদালতের আদেশ পেয়ে এলাকার কিছু লোকজনকে জড়ো করে বসতঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে একটি রুমে রেখে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ৭দিন সময় দিয়ে আমাদেরকে অন্য ছেলেমেয়েদের সাথে থাকার জন্য বলে আমার বড় ছেলে ও তার স্ত্রী।
অভিযুক্ত সালেহ আহমেদ বাবুল বলেন, ‘আমার টাকায় কেনা সাড়ে ৪২ শতাংশ সম্পত্তি আমার বাবা-মা বুঝিয়ে না দেয়ায় করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ আদালতে আবেদন করি। রায় পেয়ে উক্ত সম্পত্তির দখল বুঝে নিতে কয়েকটি রুমে তালা লাগিয়ে দিয়েছি। তাদেরকে ঘর ছেড়ে বের হয়ে যেতে বলিনি।’
মোহাম্মদিয়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এস আই এমদাদুল হক এমদাদ বলেন, পিতা-মাতার বসতঘরে তালা মারার ঘটনায় ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় শুনেছি। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থায় নেওয়া হবে।