খরুচে বোলিংয়ে তিনশ পার শ্রীলঙ্কা

সময় মতো উইকেট বের করতে পারলেন না কেউ। নিয়মিত পেসার রুবেল হোসেন এবং মোস্তাফিজুর রহমান শুরু আর শেষে দারুণ খরুচে। স্পিনাররা কেউ পারলেন না প্রভাব বিস্তার করতে। তাতে প্রথম ওয়ানডেতে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার দলীয় সংগ্রহ হয়ে গেল তিনশতাধিক।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে লঙ্কানরা শুক্রবার ৮ উইকেটে ৩১৪ রান সংগ্রহ করেছে। সেঞ্চুরি করেছেন কুশল পেরেরা। অর্ধশতকের কাছাকাছি আর আরও দুটি ইনিংস, কুশল মেন্ডিস এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের।

এদিন দলীয় ১০ রানের মাথায় আভিশকা ফার্নান্দোকে হারায় শ্রীলঙ্কা। শফিউলের অফস্টাম্পের বাইরে করা ডেলিভারি পা না নিয়ে খেলতে গিয়ে কানায় লাগান আভিশকা। স্লিপে ধরা পড়েন সৌম্য সরকারের হাতে। ১৩ বলে ৭ রান করতে পারেন তিনি।

এরপর নিজের দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে এসে ব্রেক থ্রু এনে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

পঞ্চদশ ওভারে কুসল পেরেরার সিঙ্গেলের পর টানা চারটি বল ডট করান। ওভারের শেষ বলে সুইপ করতে গিয়ে বোকা বনে যান দিমুথ করুনারত্নে। ব্যাটের কানায় লেগে বল উঠে যায় শর্ট-ফাইন লেগে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে।

৯৭ রানের জুটি গড়ে ৩৭ বলে ৩৬ রান করে ফেরেন করুনারত্নে।

এরপর কুশল পেরেরা এবং কুশল মেন্ডিস ১০০ রানের জুটি গড়ে দলের স্কোর বড় করেন। পেরেরা ৮২ বলে ক্যারিয়ারের পঞ্চম শতক তুলে নেন। এই জুটি ভাঙেন গত কয়েক মাস ধরে নিয়মিত মিডিয়াম পেসার বনে যাওয়া সৌম্য সরকার।

মাঝের এই ওভারগুলোতে তিনি গতির পরিবর্তন আর কাটারে দুই সেট ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।

৩৩তম ওভারে তার ফুল লেংথের বল শর্টফাইন লেগ দিয়ে সুইপ করতে গিয়ে ধরা পড়েন সেঞ্চুরিয়ান পেরেরা। ঠিক মতো টাইমিং করতে না পেরে মোস্তাফিজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ৯৯ বলে ১৭টি চার এবং একটি ৬ হাঁকিয়ে ১১১ রানের মাথায় শেষ করেন ব্যক্তিগত ইনিংস।

পরের ওভারের শেষ বলে ফেরেন মেন্ডিস। নিজের প্রথম দুই ওভারে ২৪ রান দেওয়া রুবেল ৩৪তম ওভারে এসে সাফল্য পান। অফস্টাম্পের বাইরে তার করা শট বলে কাট করতে চান ৪৮ বলে ৪৯ রান করা মেন্ডিস। কিন্তু মিস করে ফেলেন। বল চলে যায় মুশফিকের হাতে। বাংলাদেশ কট বিহাইন্ডের আবেদন করলেও আম্পায়ার দ্বিধায় পড়ে যান। কিন্তু মেন্ডিস উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে যান!

পরের জুটিতে শ্রীলঙ্কা যোগ করে আরও ৬০ রান। এই জুটি ভাঙেন মোস্তাফিজ। ৪৫তম ওভারে তাকে পুল করতে যান থিরিমান্নে। অফসাইডের বল এভাবে টেনে মারতে যতটা জোর লাগে, শটে ততটা ছিল না। বল চলে যায় মিডউইকেটে। সৌম্য সরকার বাঁদিকে সরে বল তালুবন্দি করেন। ৩০ বলে একটি চারের মারে ২৫ রান করে যান থিরিমান্নে।

পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে নিজের দ্বিতীয় উইকেট পান শফিউল। অফসাইডে ফুল লেংথ ডেলিভারি দেন। থিসারা পেরেরা (২) বড় শট খেলতে গেলে আকাশে উঠিয়ে দেন। এক্সট্রা কাভার থেকে আরেকটি ক্যাচ নেন সৌম্য।

৪৯তম ওভারে ম্যাথিউসকে বিদায় করেন ফিজ। সাব্বিরের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৫২ বলে ৪৮ করে যান। মোস্তাফিজ ১০ ওভারে ৭৫ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন।

২০১৬ সালের পর আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ফেরা শফিউল ৯ ওভারে ৬২ রান খরচায় ফিরিয়েছেন তিনজনকে। সমান ওভারে ৫৬ রান দিয়ে এক উইকেট মিরাজের। রুবেলও করেছেন ৯ ওভার। তাতে ৫৪ রান দিয়ে এক উইকেট তার। মোসাদ্দেক ৭ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে উইকেটহীন। সৌম্যকে দিয়ে ৫ ওভার করান তামিম। ১৭ রান দিয়ে ১ উইকেট তার।