সাংবাদিক, লেখক ও রাজনীতিবিদ মাহফুজা খাতুন বেবী মওদুদের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাকে গভীর শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ করেছেন স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা।
এ উপলক্ষে শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে (ভিআইপি লাউঞ্জ) এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে গভীর শ্রদ্ধায় তাকে স্মরণ করেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, শেখ হাফিজুর রহমান এবং শামসুজ্জামান খান।
১৯৪৮ সালের ২৩ জুন কলকাতায় বেবী মওদুদ জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা আবদুল মওদুদ ছিলেন একজন বিচারপতি। মায়ের নাম হেদায়েতুন নেসা। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে অনার্সসহ ১৯৭১ সালে মাস্টার্স করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকার সময় বেবী মওদুদ পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে যোগদান করেন। ১৯৬৭ সাল থেকে বেবী মওদুদ দৈনিক সংবাদ, সাপ্তাহিক ললনা, দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক মুক্তকণ্ঠ ও সাপ্তাহিক বিচিত্রায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। বিবিসির বাংলা বিভাগের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন বেবী মওদুদ।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করতেন বেবী মওদুদ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ সম্পাদনাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার লেখা বইয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দীপ্তর জন্য ভালোবাসা, টুনুর হারিয়ে যাওয়া, শান্তর আনন্দ, এক যে ছিল আনু, আমার রোকেয়া, মুক্তিযোদ্ধা মানিক, শেখ মুজিবের ছেলেবেলা, পাকিস্তানে বাংলাদেশের নারী পাচার, গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা ইত্যাদি।
নবম জাতীয় সংসদে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি এবং লাইব্রেরি কমিটির সদস্য হিসাবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ তৈরির ক্ষেত্রে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাবতীয় আন্দোলনে তিনি ছিলেন ঘনিষ্ঠ সহযোগী।