সিদ্ধিরগঞ্জে জলাশয় এখন সিটি করপোরেশনের ভাগাড়

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৩নং ওয়ার্ড সিদ্ধিরগঞ্জের নয়াআটি মুক্তিনগর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে সরকারি জলাশয় ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ময়লা ফেলে ভরাট করে ফেলা হয়েছে সরকারি জলাশয়। এতে একদিকে ঘটছে পরিবেশ বিপর্যয়, অপরদিকে বিঘিœত হচ্ছে পানি চলাচল। ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। বৃদ্ধি পেয়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের। ভাগাড়ের কারণে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন আশপাশের বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ৩নং ওয়ার্ডের নয়াআটি মুক্তিনগর, মাদানীনগর, নিমাইকাশারী এলাকার বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা দীর্ঘদিন ধরে ফেলা হচ্ছে ওই জলাশয়ে। এতে জলাশয় ভরাট হয়ে পানি চলাচল বিঘিœত হওয়ায় বৃষ্টি হলেই এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার। পানিবন্দি হয়ে পড়ে কয়েক হাজার পরিবার। ময়লা অপসারণকারীদের বারবার নিষেধ করার পরও তারা কর্ণপাত করছে না।

কারা ময়লা ফেলছে জানতে চাইলে পাশের দোকানদার পিন্টু দেশ রূপান্তরকে বলেন, সিটি করপোরেশনের ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজন প্রতিদিনই এখানে ময়লা ফেলছে।

পারুল নামে এক বাড়ির মালিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে ঘরে টিকতেই পারি না। গন্ধে খাওয়া-দাওয়া করতে পারছি না। বৃষ্টি হলে ময়লাযুক্ত পানি ঘরে প্রবেশ করে পায়ে ঘা হয়ে যায়।

বাড়ির মালিক আবদুল মতিন ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আবর্জনার দুর্গন্ধে ভাড়াটিয়া আসে না। বাড়ির সব রুম খালি পড়ে রয়েছে। নিজের বাড়িঘর ফেলে কোথাও যেতে না পেরে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছি মশা-মাছির জ্বালায়।

এ বিষয়ে ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহজালাল বাদলের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত কোনো জায়গা না থাকায় ইজারাদার ময়লা ফেলছে। জায়গা নির্ধারণ হয়ে গেলে এ সমস্যা থাকবে না। 

গত ২৩ জুলাই এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা আলমগীর হীরণ বলেন, সমস্যাটি অবগত আছি। দুই-এক দিনের মধ্যে আবর্জনা সরিয়ে ফেলা হবে। তবে ২৬ জুলাই সরেজমিনে ঘুরে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্জ্য সরানো তো হয়নি বরং এর স্তূপ আরও বিশাল হয়েছে।