জলাবদ্ধতায় ডেঙ্গু আতঙ্ক জুরাইনে

জলাবদ্ধতা রাজধানীর জুরাইনে পুরনো ভোগান্তি। সামান্য বৃষ্টিতে সেখানে কোথাও হাঁটুসমান পানি, কোথাও বা তারও বেশি। শ্রেণিকক্ষ কিংবা বাসাবাড়ি পানিতে একাকার থাকে অনেক সময়। জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে জন্ম নেওয়া ডেঙ্গু মশা সেখানে এক আতঙ্কের নাম। বাসিন্দাদের অনেকেই এ আতঙ্কে সন্ধ্যার পরই মশারির ভেতরে অবস্থান করে।

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত জুরাইনের সবুজবাগের বাসিন্দা শাফায়েতুর রহমান হোসাইন (২৫)। উত্তরায় একটি সফটওয়্যার ফার্মে চাকরি করেন। তার ভাই এ আর হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত শুক্রবার তার ভাই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন। ধানম-ির ইবনে সিনা হাসপাতালে তিন দিন চিকিৎসা দেওয়ার পর এখন বাড়িতে চিকিৎসা চলছে। তার অভিযোগ, বাড়ির পাশে একটি পরিত্যক্ত ডোবা আছে। সেখানে ভয়াবহমাত্রায় মশার বংশবিস্তর হয়। কয়েল ছাড়া থাকা যায় না।

শাহানা বেগম নামে এক বাড়িওয়ালা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাঝেমধ্যে ওষুধ দেওয়া হয়। কোনো কাজ হয় না। সিটি করপোরেশন থেকে মশা নিধন অভিযানে এলে সব বাসার ভেতর আসে না। জমাট বাঁধা পানি নিরসনে আমাদের করণীয় কিছু নেই। ভাড়াটে ফিরোজা বেগম বলেন, ‘সন্ধ্যা হলে মশার উৎপাতে বাইরে থাকতে পারি না। মশারির ভেতরে থাকতে হয়। বাচ্চাদের নিয়ে সব সময় ডেঙ্গুজ্বরের আতঙ্কে থাকি।’

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে জুরাইনের অধিকাংশ ঘর। প্রাথমিক স্কুলের নিচতলায় শ্রেণিকক্ষে প্রায় তিন ফুট স্বচ্ছ পানি। পানির কারণে ক্লাস নিতে পারছেন না শিক্ষকরা। স্কুলের পেছন দিকে হাজী কে আলী রোডে একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলায় জমেছে প্রায় তিন ফুট স্বচ্ছ পানি। ডিএসসিসির ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশেষ করে স্বচ্ছ ও তিন দিন জমে থাকা পানিতে ডেঙ্গু মশার জন্ম হয়। আমরা জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য কাজ করছি। সিটি করপোরেশনের অধীনে কয়েকটি টিম কাজ করছে। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পানি ও ময়লা পরিষ্কার করছে। জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণের কাজ চলছে। এর সমাধান হতে একটু সময় লাগবে।

ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলনের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘৫২ নম্বর ওয়ার্ডে গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছে সাতজন। এর মধ্যে মারা গেছে একজন। এখানে জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো পরিকল্পনা নেই।’