সংখ্যায় সংখ্যায় মালিঙ্গার কীর্তি

ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানালেন লাসিথ মালিঙ্গা। ১৫ বছরের পথ চলা থামল তার। এই পথচলায় ক্রিকেটকে রাঙিয়ে গেছেন তিনি। নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তির কাতারে। সংখ্যায় সংখ্যায় দেখে নেওয়া ওয়ানডেতে এই লঙ্কানের কীর্তিগুলো-

৩৩৮

একদিনের ক্রিকেটে মালিঙ্গার উইকেটসংখ্যা। এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় দশম স্থানে তিনি। শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে শুধু মুত্তিয়া মুরালিধরন (৫৩৪) ও  চামিন্দা ভাস (৪০০) তার চেয়ে এগিয়ে।

৫৬

বিশ্বকাপে মালিঙ্গার উইকেট সংখ্যা। সব বোলারের মধ্যে যা তৃতীয় সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি উইকেট আছে কেবল গ্লেন ম্যাকগ্রা (৭১) ও মুত্তিয়া মুরালিধরনের (৬৮)। দেশের হয়ে চারটি বিশ্বকাপ (২০০৭, ’১১, ’১৫ ও ’১৯) খেলেছেন তিনি। প্রতিবারই ১২ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন। তিনের বেশি বিশ্বকাপ খেলেছেন এমন বোলারদের প্রত্যেক সংস্করণে দশের বেশি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব নেই।

একদিনের ক্রিকেটে লাসিথ মালিঙ্গার হ্যাটট্রিক সংখ্যা। আর কোনো বোলারের ওয়ানডেতে এত হ্যাটট্রিক নেই। তিনি ২০০৭-এর বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের পর ২০১১ সালের বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষেও হ্যাটট্রিক করেছিলেন। ২০১১ সালে মালিঙ্গা তিন নম্বর হ্যাটট্রিক করেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। তিনিই একমাত্র বোলার যিনি ওয়ানডেতে চার বলে ৪ উইকেট নিয়েছেন।

১৬৩

মালিঙ্গা একদিনের ক্যারিয়ারে সোনালি সময় পার করেছেন ২০১১ থেকে ’১৪ সালের মধ্যে। এই সময়ে ১৬৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সেই সময়ে আর কোনো বোলার ওয়ানডেতে তার চেয়ে বেশি উইকেট পাননি। অভিষেকের পর প্রথম ৪৫ ম্যাচে ৬৭ উইকেট নিয়েছিলেন মালিঙ্গা।

২৪.৭

জেতা ম্যাচে মালিঙ্গার বোলিং স্ট্রাইক রেট। জেতা ম্যাচে ১৫০ উইকেটের বেশি নিয়েছেন এমন বোলারদের মধ্যে এটাই সেরা স্ট্রাইক রেটের রেকর্ড। জেতা ম্যাচে ২১২ উইকেট নিয়েছেন। হারা ম্যাচে মালিঙ্গার উইকেটসংখ্যা ১১২ (স্ট্রাইক রেট ৪৭.০)। জেতা ম্যাচে তার বোলিং গড় ২০.২৩। হারা ম্যাচে বোলিং গড় ৪৫.৮৯ (শেষ ম্যাচের আগপর্যন্ত)।

২৯

এশিয়া কাপে ১৪ ম্যাচে ২৯ উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা। এশিয়া কাপে মুরালিধরনই কেবল তার চেয়ে বেশি ২৪ ম্যাচে ৩০ উইকেট নিয়েছেন। ২০১৪ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে ৫৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন তিনি।

একদিনের ক্রিকেটে মোট আটবার ৫ উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা। একদিনের ক্রিকেটে বেশি ৫ উইকেট নেওয়াদের মধ্যে পঞ্চম। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিনবার ৫ উইকেট নিয়েছেন মালিঙ্গা।

একদিনের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছয়বার শেন ওয়াটসনকে আউট করেছেন মালিঙ্গা। পাঁচবার করে আউট করেছেন শহিদ আফ্রিদি, মার্টিন গাপটিল ও মোহাম্মদ হাফিজকে। দুবার করে হাফিজ ও বীরেন্দ্র শেবাগ কোনো রান না করেই মালিঙ্গার বলে আউট হয়েছেন।

৫৬

ওয়ানডে ক্রিকেটে মালিঙ্গার সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মেলবোর্নে এই ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটাই তার একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিও। সেদিন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের সঙ্গে নবম উইকেটে ১৩২ রানের জুটি গড়েছিলেন। ২৪০ রান তাড়া করে ১ উইকেটে জিতেছিল শ্রীলঙ্কা। ১০৭ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর মালিঙ্গা ও ম্যাথুস জুটি গড়ে দলকে অবিশ্বাস্য জয় এনে দিয়েছিলেন।