ফোন চার্জে দিয়ে কথা বলা কিংবা গেম খেলা বিপজ্জনক একটি কাজ। চার্জের সময় এমনিতে ফোন গরম হয়, তখন অন্য কাজ করলে ফোনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।
প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, ভাল ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন আর ওই একই কোম্পানির চার্জার ব্যবহার করলে বিপদের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে।
অনেক ঘটনার কথাই জানা যায়, যেখানে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে কারও মৃত্যু হয়েছে অথবা কারও শরীরের কোনও অংশ ঝলসে গেছে।
ইউ এস কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন বলছে, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালে মোবাইল ফোনের ব্যাটারি আর চার্জারের কারণে ২,০০০ দুর্ঘটনা তারা নথিবদ্ধ করেছে।
প্রযুক্তিবিদদের ব্যাখ্যা, মোবাইল ফোন অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতেই পারে। কিন্তু তাপমাত্রা খুব বেড়ে যাওয়ার আগেই মোবাইলে এমন কয়েকটি সুরক্ষা কবচ থাকে, যা চূড়ান্ত তাপমাত্রায় পৌঁছতেই দেয় না।
কিন্তু সস্তা ও অনামী যেসব ব্র্যান্ড আছে, তাদের ফোনে অনেক সময় এরকম সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখে না। আবার যে কোম্পানির ফোন, তাদের সরবরাহ করা চার্জার ব্যবহার না করে সস্তার কোনও চার্জার ব্যবহার করলেও এরকম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
চার্জের সময় ফোন গরম হলে যা করবেন:
১. ফোনের অতিরিক্ত তাপমাত্রা টের পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অফ করতে হবে। চার্জ থেকে খুলে ঠান্ডা স্থানে নিতে হবে।
২. কিছুক্ষণ ফ্রিজের ভেতর রাখতে পারেন। বেশি সময় যেন সেখানে না থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
৩. এ ছাড়া ফ্যানের সামনে অথবা গাড়ির এসিতেও রাখতে পারেন। এর ফলে ফোনের তাপমাত্রা দ্রুত স্বাভাবিক হবে।
৪. ফোনের তাপমাত্রা যদি ভিডিও দেখতে দেখতে কিংবা গেম খেলতে খেলতে বেড়ে যায়, তাহলে সেগুলো বন্ধ করতে হবে। ফোনের ব্রাইটনেস কমাতে হবে।
৫. এসবের বাইরে ফোন যদি নিয়মিত গরম হতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে অন্য সমস্যা আছে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করতে হবে। আশার কথা হল, ফোন গরম হলেও স্থায়ী ক্ষতি অত সহজে হয় না। তাই দ্রুততম সময়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরিয়ে আনতে পারলে ক্ষতি এড়ানো যায়।
৬. ফোন রোদে কিংবা গাড়িতে ফেলে রাখবেন না। গেম কিংবা একটানা ভিডিও দেখার সময় বিরতি দেবেন। ভিডিও দেখার সময়, গেম খেলার সময় চার্জে দেবেন না।