দেশের বৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে চলতি অর্থবছর ৬ হাজার ২৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সফল হওয়ার কথা বললেও অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। গত অর্থবছর বেনাপোলের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা করেছিল ৫ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। আদায় হয়েছে ৪ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ঘাটতি ছিল ১৪শ ৪৩ কোটি টাকা। ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট, এক্সপোর্ট বন্দর সাব-কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে অবকাঠামগত বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে এনবিআরের বেঁধে দেওয়া বিশাল অঙ্কের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, সরকার বেনাপোল বন্দরের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এখন যে রাজস্ব আদায় হয়, তা বেড়ে দ্বিগুণ হবে।
বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারক মো. ইদ্রিস আলী জানান, বেনাপোল বন্দরে পরীক্ষাগার না থাকায় পণ্যের নমুনা পরীক্ষণের জন্য এখনো ঢাকাতে পাঠাতে হয়। রিপোর্ট হাতে পেতে ১৫ থেকে ২০ দিন, কখনো মাসের অধিক সময় লেগে যায়। এতে আমদানি পণ্য বন্দরে আটকে থেকে যেমন লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের তেমনি পণ্যের মান নষ্ট হচ্ছে। এতে দিনে দিনে এ পথে আমদানি কমেছে।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) প্রাদুস কান্তি দাস বলেন, অবকাঠামগত উন্নয়নে বেশ কিছু কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া বন্দরের আয়তন বাড়াতে কিছু নতুন জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে। বেনাপোল কাস্টমস হাউজের পরিসংখ্যন শাখার উপ-পরিদর্শক সরোয়ার হোসেন জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।