‘আমরা পালা করে ফেনী কারাগারে দর্শনার্থীদের সাক্ষাত তালিকা রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করি ও শ্লিপ লিখি। গত ১ এপ্রিল দুপুরে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বোন বিবি জহুরা তার সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তার সঙ্গে আসামি নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, ইমরান হোসেন মামুন, হাফেজ আব্দুল কাদের ছিলেন। ৩ এপ্রিল দুপুরে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ হোসাইন সিরাজের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। তার সঙ্গে শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও জাবেদ হোসেন ছাড়াও কয়েকজন ছিলেন। ২৭ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সিরাজের সহযোগীরা দফায় দফায় তার সঙ্গে দেখা করেন।’
রবিবার মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের পর পুড়িয়ে হত্যা মামলার সাক্ষী কারারক্ষী মো. শাহনেওয়াজ, মো. রিপন ও ছবি রঞ্জন ত্রিপুরা তাদের জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন।
এদিন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে ফেনীর জেল সুপার রফিকুল কাদের, ডেপুটি জেলার মনির হোসেন, স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা ও মোশাররফ হোসেনও সাক্ষ্য দেন।
জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসূলী (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ বলেন, এখন পর্যন্ত এ মামলায় বাদীসহ ৫৮ জনের সাক্ষগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার নুসরাতের বাবা একেএম মুসা মানিক, মোহাম্মদ আলী ও সৈয়দ সেলিমের সাক্ষ্যপ্রদানের তারিখ ধার্য করেছে আদালত।
ডেপুটি জেল সুপার জবানবন্দিতে বলেন, ‘২০১৭ সালের ৭ সেপ্টম্বর থেকে আমি ফেনী কারাগারের ডেপুটি জেল সুপার হিসেবে কর্মরত। কারাগারের সাক্ষাৎ কক্ষের রেজিস্টারটি আমি রক্ষণাবেক্ষণ করি। গত ১৬ মে দুপরে পিবিআই কর্মকর্তারা ওই রেজিস্টারটি জব্দ করেন। যেখানে সিরাজের সঙ্গে সাক্ষাতকারীদের তথ্য লিপিবদ্ধ ছিলো।’
স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা ও মোশাররফ হোসেন আদালতে প্রায় একই বক্তব্য দেন।
তারা বলেন, ‘গত ৮ মে পিবিআই কর্মকর্তারা নুসরাত হত্যা মামলার আসামি শামীম, যোবায়ের ও জাবেদকে নিয়ে মাদরাসার সাইক্লোন শেল্টারের দ্বিতীয় তলার অধ্যক্ষের রুমের সামনে যায়। সেখানে একটি ওয়াল ক্যাবিনেট থেকে একটি কাঁচের গ্লাস জব্দ করে। জব্দ তালিকায় আমরা স্বাক্ষর করি। ওই সময়ে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জাবেদ জানায়, ওই গ্লাসে কেরোসিন ভরে নুসরাতের গায়ে ঢেলে আগুন লাগানো হয়।’
এদিন বেলা ১১টা থেকে মাঝে ৩০ মিনিটের বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম চলে। সাক্ষ্য শেষে তাদের জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পিপি হাফেজ আহাম্মদ, এপিপি এ কে এস ফরিদ আহাম্মদ হাজারী ও এম শাহজাহান সাজু।
৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সহযোগীরা তার শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।