ঐক্য রক্ষার সফর জনসনের

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গতকাল সোমবার স্কটল্যান্ড সফরে যান বরিস জনসন। সোমবার সকালেই তিনি স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের জন্য তিনশ মিলিয়ন পাউন্ডের ফান্ড ঘোষণা করেন। জনসনের চুক্তিহীন ব্রেক্সিট পরিকল্পনায় কোনো সমর্থন দেওয়া হবে না, স্কটল্যান্ডের টোরি নেতা রুথ ডেভিডসনের এমন মন্তব্যের একদিন পরেই নতুন প্রধানমন্ত্রী এই সফরের ঘোষণা দেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বসার পরই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরের প্রথম ভাষণেই জনসন দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, আগামী ৩১ অক্টোবর চুক্তিসহ অথবা চুক্তিহীন অবস্থায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়বে যুক্তরাজ্য। তার এমন বক্তব্যের পরেই ব্রেক্সিট ইস্যুতে নতুন করে বক্তব্য দিতে শুরু করেন স্কটিশ ও আয়ারল্যান্ডের নেতারা।

গত রবিবার স্কটিশ মেইলে লেখা এক নিবন্ধে রুথ ডেভিডসন বলেন, ‘২০১৬ সালে আমি যখন ব্রেক্সিটপন্থিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলাম, তখন আমার মনে পড়ে না কেউ চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে কথা বলেছিল। ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্যের নিরবচ্ছিন্নতা বন্ধে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট দরকার এমন কথা কেউ বলেনি।’

স্কটল্যান্ড সফরকালে জনসন স্কটিশ ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজেন ও রুথ ডেভিডসনের সঙ্গে এডিনবার্গে ব্রেক্সিট কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও তাদের মধ্যকার আলোচনার বিস্তারিত জনসনের দপ্তর থেকে প্রকাশ করা হয়নি।

সফর শুরুর আগে বরিস জনসন বলেন, ‘ইতিহাসে আমাদের ইউনিয়নই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী। আমরা বৈশ্বিক ব্র্যান্ড। একত্রে আমরা অনেক নিরাপদ, শক্তিশালী এবং অধিকতর সমৃদ্ধিশালী। যখন আমরা ব্রেক্সিটের পর আমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ প্রশ্নে প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিজেদের ঐক্য সংহত করা যা ইউনাইটেড কিংডমের ভিত্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি আজ স্কটল্যান্ডে এসে গর্বিত বোধ করছি। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমি আমাদের এই বিশাল ইউনিয়নের প্রতি আস্থাভাজন ও বিশ্বাসী। আমি এরপরই ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়াল্যান্ডে সফর করব। ওই সফরে আমি এটাই নিশ্চিত করার চেষ্টা করব যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেওয়া আমার প্রত্যেকটি পদক্ষেপ আমাদের ইউনিয়নকে আরও শক্তিশালী করবে।’

নিকোলা স্টারজেন ও রুথ ডেভিডসনের সঙ্গে ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়েই যে কথা হয়েছে তা নিশ্চিত। কিন্তু একটা বিষয় উল্লেখ করা জরুরি যে, এর আগেই জনসন এক বক্তব্যে বলেছিলেন, ব্রেক্সিট নিয়ে ‘কোনো যদি, কোনো কিন্তু’ চলবে না। অক্টোবরের ৩১ তারিখ যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়বেই। নির্ধারিত সময়ে ব্রেক্সিট নিশ্চিতে তিনটি নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে ইতিমধ্যেই। এরমধ্যে একটি হলো ‘ডেইলি অপারেশনস কমিটি’। মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের নিয়ে এই কমিটি গঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ ছাড়াও এই কমিটি চুক্তিহীন ব্রেক্সিট নিয়ে কাজ করবে।

এদিকে কনফেডারেশন অব ব্রিটিশ ইন্ডাস্ট্রি সরকারকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেউই অক্টোবরের ৩১ তারিখ চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের জন্য প্রস্তুত নয়। এমন অবস্থায় চুক্তিহীন অথবা চুক্তির ভেতর দিয়ে যাওয়া ব্রেক্সিট প্রশ্নে পার্লামেন্টের এমপিদের অবস্থান কেমন হবে তা এখনো বলা যাচ্ছে না।