ঈদুল ফিতরে অ্যাপের মাধ্যমে শতবার চেষ্টা করেও রেলের টিকিট পাননি অনেকে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এসব যাত্রী এবার ভরসা পাচ্ছেন না অ্যাপে। এ কারণে অগ্রিম টিকিট পেতে তারা আগের রাত থেকেই অবস্থান নেন রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গতকাল সোমবার রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীদের জন্য ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিদিন বিক্রি হবে ট্রেনের ৬৯ হাজার ৭৫৩টি টিকিট। এদিকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর পর গতকাল রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, এবার অনলাইনে টিকিট বিক্রির পরিস্থিতি সন্তোষজনক।
গতকাল ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ রাজধানীর পাঁচটি স্থান থেকে ৭ আগস্টের টিকিট বিক্রি করা হয়। এ ছাড়া একই দিনের টিকিট সকাল ৬টা থেকে অনলাইনে ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি শুরু হয়। আর কাউন্টারে বিক্রি করা হয় সকাল ৯টা থেকে।
কমলাপুরে গিয়ে কথা হয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইমদাদুলের সঙ্গে। ঈদুল ফিতরে অ্যাপের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এবার কাউন্টারে এসেছেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের সময় অনেকবার চেষ্টা করেছি, টিকিট পাইনি। পরে এবার রবিবার রাত ৮টার দিকে এসেছি, সাড়ে ১২টায় নাম লিখিয়েছি, আর আড়াইটায় সিরিয়াল নাম্বার পেয়েছি। প্রায় ১৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ১০টা ৩৫ মিনিটে কাক্সিক্ষত টিকিট হাতে পাই।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তানজিল হাসান রাজশাহী যাওয়ার অগ্রিম টিকিট কাটতে গতকাল ভোররাতে কমলাপুরে এসে হাজির হন। গত ঈদে অ্যাপের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শতবার চেষ্টা করেছি; তাও অ্যাপে টিকিট না মেলায় এবার কাউন্টারে এসেছি। এখানে দাঁড়িয়ে থেকেও চেষ্টা করেছি। কিন্তু ঢুকতে পারছিলাম না। এ জন্য কাউন্টারই ভরসা।’
অগ্রিম টিকিট বিক্রির প্রথম দিনে অনেক টিকিট প্রত্যাশীর জানা ছিল না যে, বিভিন্ন গন্তব্যের টিকিট বিভিন্ন কাউন্টারে দেওয়া হচ্ছে। তাই কমলাপুর চলে এসে তাদের পড়তে হয়েছে বিড়ম্বনায়। প্রথমে নারীদের জন্য একটি কাউন্টার থাকলেও পরে মন্ত্রীর নির্দেশে আরও একটি কাউন্টার খোলা হয়।
এদিকে গতকাল বেলা ১১টার দিকে রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন কমলাপুরে পরিদর্শন আসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার অনলাইনে টিকিট বিক্রির পরিস্থিতি সন্তোষজনক। গত ঈদে একটা অভিযোগ ছিল, মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইনে টিকিট কাটা যাচ্ছিল না। এবার পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় ট্রেনে যাত্রীদের বাড়তি চাপ থাকে। সে জন্য আন্তঃনগর ট্রেনে আসনের অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করা হবে। বিশেষ ট্রেনের ২ হাজার ৬৫৩টি টিকিট বিক্রি হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন ঢাকা থেকে বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের
২৬ হাজার ৫০০ টিকিট বিক্রি হবে। মোট টিকিটের ৫০ শতাংশ কাউন্টারে, বাকি ৫০ শতাংশ মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। ঈদের সময় মেইল, এক্সপ্রেস এবং লোকাল ট্রেনে ২৪ হাজার ৮৯৫টি মিলিয়ে প্রতিদিন ৬৯ হাজার ৭৫৩টি টিকিট বিক্রি করা হবে।’
আগামী ১২ আগস্ট ঈদ ধরে রেলওয়ের কর্মপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে। ৩০ জুলাই (আজ মঙ্গলবার) ৮ আগস্ট, ৩১ জুলাই ৯ আগস্ট, ১ আগস্ট ১০ আগস্ট ও ২ আগস্ট ১১ আগস্টের টিকিট বিক্রি করা হবে। ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৫ আগস্ট। সেদিন দেওয়া হবে ১৪ আগস্টের টিকিট। এরপর ৬ আগস্ট ১৫ আগস্টের, ৭ আগস্ট ১৬ আগস্টের, ৮ আগস্ট ১৭ আগস্টের ও ৯ আগস্ট ১৮ আগস্টের টিকিট বিক্রি করা হবে।
রাজধানীর কমলাপুর ছাড়াও আরও চারটি জায়গা থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে। যমুনা সেতু হয়ে পশ্চিমাঞ্চলগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে ঢাকার কমলাপুর থেকে। চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে বিমানবন্দর স্টেশন থেকে, ময়মনসিংহ-জামালপুরগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট তেজগাঁও রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিক্রি হবে। নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট বনানী স্টেশন থেকে এবং ফুলবাড়িয়া থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে।