ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে সৃষ্ট সমস্যা অল্প দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও চিকিৎসকদের নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমরা সবসময় ডেঙ্গু পরিস্থিতি মনিটরিং করছি। আমরা মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করছি, মশা মারার জন্য নতুন ওষুধ আনছি। আমরা বিশ্বাস করি, পরিস্থিতি অল্প দিনের মধ্যে ম্যানেজ হয়ে যাবে। আপনাদের কাছে সহযোগিতা চাই।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে চিকিৎসাধীন থেকেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিন খোঁজ নিচ্ছেন ও নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমাদের উদ্যোগের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সমন্বয়ে সব কাজ চলছে।’
ডেঙ্গুতে আক্রান্তের পরিসংখ্যান দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৭ হাজার ১৬৩ রোগী। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১২ হাজার ২৬৬ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪ হাজার ৯০৩ জন। ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ১৪ জন।’
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোতে নতুন নতুন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেসব হাসপাতালে রোগী ভর্তি করা হতো না, সেখানে ভর্তির ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। প্রত্যেক জেলার সিভিল সার্জনকে ডেঙ্গু চিকিৎসার গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। আমাদের ২৯ জন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। তারা ঘুরে ঘুরে প্রত্যেক জেলায় যাচ্ছেন। ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৬৫ হাজার কিট বিতরণ করা হয়েছে। আরও ৫ লাখ কিট আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’
এদিকে গতকাল সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট চারটি ডেঙ্গু ওয়ার্ড উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর হাসপাতাল থেকে বের হলে সাংবাদিকরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ধরেন। তবে ওই সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান।
তবে মিটফোর্ড হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকদের জন্য হাসপাতালটিতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সেখানে তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ডেঙ্গু কিট আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গতকাল রাতে আসছে এক লাখ। আজ বাকিগুলো আনা হবে।
ঈদের সময় ডেঙ্গু রোগীরা বাড়ি যাবেন। এ সময় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবার ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি হাসপাতালে কোনো রোগী চিকিৎসা পাননি, এমনটি হয়নি। ডাইজেস্টিস ইনস্টিটিউট, নতুন স্থাপিত শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের মতো কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলোতে এখনো চিকিৎসা শুরু হয়নি। তবে ডেঙ্গু রোগী আরও বেড়ে গেলে সরকারি হাসপাতালে ব্যবস্থা করা না গেলে এসব হাসপাতালে ব্যবস্থা করা হবে।’