রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারগুলোতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি, পেঁয়াজ ও মরিচের দাম কিছুটা কমেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা কমে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়, আর ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ টাকায়। মরিচ বিক্রি হচ্ছে গত সপ্তাহের দামের তুলনায় অর্ধেক দামে। সেই সঙ্গে মাছের বাজারে ইলিশের দাম রয়েছে বাড়তি। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে মাছ সংকটের কারণে দামের দিকটাও রয়েছে চড়া।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শান্তিনগর, হাতিরপুল, মোহাম্মদপুর অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
কারওয়ান বাজারে মাছ ও সবজির বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১০০০ হাজার টাকায়। যা গত সপ্তাহে ৯০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিংড়ি মাছ মাঝারি সাইজের ৯৫০ টাকা কেজি, ট্যাংরা মাছ ছোট সাইজের এক কেজি ২৫০ টাকা, রুই মাঝারি মাছ ৩৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ মাছ মাঝারি ১৪০ টাকা কেজি, সামুদ্রিক পোয়া মাছ ৩০০ টাকা কেজি, শিং মাছ বড় সাইজের ৬০০ টাকা কেজি। তবে গত সপ্তাহের তুলনায় শিং মাছের দাম কেজিতে ৫০ টাকা কমেছে। শসা ৬০ টাকা কেজি, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা, লাউ পিস প্রতি ৫০-৬০ টাকা, গাজর ৭০ টাকা কেজি গত সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা, বেগুন ৩০ টাকা, পেঁপে কেজি ৪০ টাকা, পটল কেজি ৩০ টাকা, গত সপ্তাহে ছিল ৬০ টাকা, আলু ২০-২৫টাকা।
অপরদিকে মাছ ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে কোরবানির আগে অন্য সব মাছের দাম না বাড়লেও ইলিশ ও চিংড়ি মাছের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। কোরবানিতে এসব মাছের চাহিদা বেশি থাকে।
এদিকে মুরগি বাজারে গিয়ে দেখা যায় ,পাকিস্তানি কক কেজি প্রতি ৩০০ টাকা, দেশি কক প্রতি কেজি ৪০০ টাকা, ফার্মের মুরগি প্রতি কেজি ১৩০ টাকা। কোরবানির আগে মুরগির মাংসের দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন কারওয়ান বাজারের সোহাগ নামে এক মুরগি ব্যবসায়ী। খাসির মাংস কেজি প্রতি ৭৫০ টাকা, গরুর মাংস কেজি ৫৫০ টাকা। কারওয়ান বাজারের গরুর মাংস বিক্রেতা শাহরিয়ার কবির জানান, পুরো বাজারে মাংসের সংকট। বাজারে কোরবানির জন্য গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা কিনতে পারছেন না। এদিকে কোরবানিকে সামনে রেখে ঘাটে ঘাটে তাদের বেশি করে চাঁদা দিতে হয়। এই জন্য দাম আর কমানো সম্ভব হচ্ছে না। এই সমস্যাগুলো না থাকলে গরুর মাংস ১০০ টাকা কমে বাজারে বিক্রি করা যেত।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বাজারগুলোতে বিভিন্ন প্রকার মসলার দাম গত কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই মসলার দাম ধাপে ধাপে বেড়েছে । এই চড়া দাম কমার কোন সম্ভাবনা নেই। এলাচ প্রকারভেদে কেজিতে ২৪০০- ২৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, বাদাম কেজি ১১৫ টাকা, দারুচিনি প্রতি কেজি ৪২০ টাকা, লবঙ্গ কেজি ৯০০ টাকা, জিরা ৪০০ টাকা কেজি, চায়না আদা ১৬০ টাকা, কিশমিশ ২৫০ গ্রাম ১১০ টাকা।
এদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সেমাই বিক্রি শুরু হয়েছে বাজারগুলোতে। বনফুল ২০০ গ্রাম ৩০ টাকা, আলাউদ্দিন লাচ্ছা সেমাই ৫০০ গ্রাম ২০০ টাকা, ডায়মন্ড সেমাই ৯০৮ গ্রাম ৭০ টাকা, অলিম্পিক ৫০০ গ্রাম ১৫০ টাকা, খোলা চিনি কেজি ৫২ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। প্রতি ডজন ডিম ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে চাল, আটা, তেল, চিনি, ডালের বাজার রয়েছে স্থিতিশীল।