চেয়ারম্যানসহ বিএসইসির ৪ কমিশনারের পদত্যাগ

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৬, ১১:৪৬ এএম

অবশেষে নানামুখী চাপ, বিতর্ক ও আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ। তাঁর সঙ্গে সংস্থার আরও চার কমিশনারও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে তারা এই পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগ করা চার কমিশনার হলেন- মু. মহসীন চৌধুরী, মো. আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মো. সাইফুদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে চলমান অস্থিরতা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের তীব্র ক্ষোভ এবং বিএসইসির অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের জের ধরেই এই গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মেয়াদ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট খন্দকার রাশেদ মাকসুদ চার বছরের জন্য বিএসইসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এছাড়া কমিশনারদের মধ্যে মু. মহসীন চৌধুরী ২০২৪ সালের ২ জুন, মো. আলী আকবর ২৮ আগস্ট, ফারজানা লালারুখ ৩ সেপ্টেম্বর এবং সর্বশেষ মো. সাইফুদ্দিন ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তীব্র ক্ষোভের মুখে তারা বিদায় নিলেন।

এর আগে, গত ২ জুন রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বিএসইসি পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। মন্ত্রীর সেই প্রকাশ্য ঘোষণার পর থেকেই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল, যা আজ চূড়ান্ত রূপ নিল।

উল্লেখ্য, খন্দকার রাশেদ মাকসুদের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক মাস ধরেই বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভের পাশাপাশি সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সামনে ও বিভিন্ন এলাকায় মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং সড়ক অবরোধ করে বিএসইসি পুনর্গঠনের জোরালো দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শীর্ষ পর্যায়ে এই পরিবর্তনের পর দেশের পুঁজিবাজারে ইতিবাচক হাওয়া ফিরবে বলে আশা করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত