লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোয় চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হচ্ছে না। স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ায় এলাকায় বাড়ছে রোগীদের ভোগান্তি। অসুস্থদের বিড়ম্বনারও শেষ নেই।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটে দুর্ভোগ বাড়ছে। এই হাসপাতালে ২১ জন চিকিৎসকের মধ্যে আছেন ৯ জন। এর মধ্যে ১০ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জায়গায় আছেন মাত্র দুজন। আট মেডিকেল অফিসারের মধ্যে আছেন পাঁচজন। তিনটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে। এতে দরিদ্র জনসাধারণ আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

লোহাগাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০০২-০৩ সালে জটিল প্রসূতি রোগীর অস্ত্রোপচারে (ইউসি) সেবা ও ভালো মানের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বর্ণপদক পায়। ওই সময় এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সুনামের জন্য লোহাগাড়াসহ আশপাশের উপজেলা চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, চকরিয়া, লামা, আলীকদম থেকে জটিল রোগীরা লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হতেন চিকিৎসাসেবা নিতে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে শিশু ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন। কিন্তু মেডিসিন, শল্যচিকিৎসক (সার্জারি), নাক কান গলা, হৃদরোগ, অবেদনবিদ, হাড় জোড়া ও চক্ষু বিশেষজ্ঞ ৫-৬ বছর ধরে নেই।  চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ এ হাসপাতালে পদায়ন থাকলেও দীর্ঘদিন সংযুক্তিতে চট্টগ্রাম শহরে সরকারি চর্ম ও সামাজিক চিকিৎসাকেন্দ্রে কর্মরত আছেন। এ ছাড়া এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তাসহ (আরএমও) পাঁচ চিকিৎসকের পদ খালি। এ ছাড়া ল্যাব টেকনিশিয়ান, ওয়ার্ড বয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশালচি (কুক) পদ খালি রয়েছে। পদুয়া, চরম্বা ও বড়হাতিয়া ইউনিয়নের তিনটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই।

লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক চৌধুরী বলেন, চিকিৎসক সংকট সমাধানে স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরসনের চেষ্টা করা হবে।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. মোহাম্মদ হানিফ জানান, প্রতিদিন গড়ে এ হাসপাতালে ৫০ জন রোগী ভর্তি হন এবং বহির্বিভাগে ৩৫০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসক সংকটের কারণে রোগীদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ও চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালককে জানানো হয়েছে।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌছিফ আহমদ জানান, লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি আগামী উপজেলা সমন্বয় সভায় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জানান, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক নেই। সংকট নিরসনে উচ্চপর্যায়ে কাজ চলছে।