এবার ক্যামেরার পেছনে রিচি

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান। বিয়ের পর কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছিলেন। এখন তো যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হয়েছেন। তবে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা একটুও কমেনি। তাই তো একটু ফুরসত পেলেই ছুটে আসেন দেশে। দাঁড়িয়ে যান ক্যামেরার সামনে। তেমনি করে আসছে ঈদুল আজহায় একাধিক নাটক ও টেলিছবির কাজ নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। এবার তিন মাসের জন্য দেশে এসেছেন। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি নাটক ও টেলিছবির কাজ করেছেন। সে ক্ষেত্রে বাছ-বিচার করে কাজের সুযোগ পেয়েছেন কি? জানতে চাইলে রিচি বলেন, ‘কোন ধরনের গল্প বা চরিত্রে অভিনয় করব এটা নিজের ওপর নির্ভর করে। সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কাজ করব নাকি আত্মতৃপ্তির জন্য, সে সিদ্ধান্ত যার যার নিজস্ব। আসল কথা হলো, ভালো কাজের জন্য ইচ্ছা থাকা জরুরি। এজন্য তিন মাসের এই সফরে প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের পাশাপাশি ভালো কিছু নাটক, টেলিছবিতে অভিনয় করেছি। প্রস্তাব অনেক পেয়েছি, কিন্তু তাড়াহুড়ো করে কোনো কাজ করতে চাইনি।’

সম্প্রতি মাছরাঙা টিভির ঈদের বিশেষ ‘রাঙা সকাল’ অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র প্রযোজনার ঘোষণা দিয়েছেন রিচি। হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে তা নিজেই জানালেন, ‘ঠিক হুট করে নয়, অনেক পরিকল্পনা করেই চলচ্চিত্র প্রযোজনায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন প্রতিযোগিতার যুগ। দর্শক গৎবাঁধা কোনো কিছু দেখতে চান না। শুধু বড় বাজেট দিয়ে দর্শকের মন পাওয়া যায় না। তাছাড়া বহু তারকার সমাগম ঘটালেই যে সিনেমা হিট হবে, সেদিনও নেই। বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্রের একই ধারা চলছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী বলিউড ইন্ডাস্ট্রির দিকে তাকালে বোঝা যায়, প্রতিষ্ঠিত তারকাদের চেয়ে তুলনামূলক তরুণরা ভালো করছেন। নতুন কনসেপ্ট ও ভালো নির্মাণশৈলীর কারণে তা সম্ভব হচ্ছে। আমাদেরও চিরায়ত প্রেম-ভালোবাসার গল্পের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুনভাবে চিত্রনাট্য উপস্থাপন করতে হবে। ভিন্নধর্মী কোনো কিছু যদি দর্শক না খুঁজে পান, তাহলে সিনেমার প্রতি আকৃষ্ট হবেন না। সে ধরনের সিনেমা প্রযোজনা করতে চাই, যেখানে দর্শক ভিন্নতা খুঁজে পাবেন।

এখন সিনেমা প্রযোজনা আর্থিকভাবে যতটা ঝুঁকিপূর্ণ, ততটাই চ্যালেঞ্জিং এটা জেনেও চলচ্চিত্রে অর্থলগ্নি প্রসঙ্গে রিচির ভাষ্য, ‘ছোটবেলায় কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় পড়েছিলাম ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে’Ñ অনেকটা এ উক্তির ওপর ভিত্তি করেই প্রযোজনায় এসেছি। এটা সত্যি যে, বেশ কয়েক বছর ধরেই আমাদের দেশের চলচ্চিত্র বাজে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন শিল্পীরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসেন, তবেই চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি সম্ভব। নিজেদেরই যদি ইন্ডাস্ট্রির প্রতি ভালোবাসা না থাকে, তাহলে সাধারণ দর্শক কেন চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহী হবেন? এই ভাবনা থেকেই প্রযোজনায় আসা। তাছাড়া অভিনয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত আছি। তাই ক্যামেরার সামনে হোক বা পেছনে যেকোনো মাধ্যমে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় নিজেকে যুক্ত রাখাটা দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’

দেখতে দেখতে অভিনয় জীবনের দুই দশক পার করেছেন রিচি। পেছন ফিরে তাকালে কী দেখতে পান? ‘দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ার নিয়ে আমার কোনো অপ্রাপ্তি নেই। দর্শকের ভালোবাসার কারণেই এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আমার এখন যে জীবন, সে জীবনই সবসময় চেয়েছি। স্বামী-সন্তান নিয়ে সংসার ও তার ফাঁকে নিজের কাজÑ এক জীবনে যা পেয়েছি, আমি সন্তুষ্ট’ গর্বের সঙ্গে বললেন রিচি।