নিজেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না

বাংলাদেশের ছেলে মেহেদি হাসান পলাশ। সম্প্রতি দেশের গন্ডি পেরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত ‘ফেস অব এশিয়া’ প্রতিযোগিতায় এশিয়ার সেরা পুরুষ মডেলের খেতাব জিতেছেন। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

‘ফেস অব এশিয়া’ প্রতিযোগিতায় গেলেন কীভাবে?

ওখানে এশিয়ার ২৭টি দেশ থেকে নির্বাচিত ৪ জন করে মডেল অংশ নেন। সব মিলে ১১০ জন প্রতিযোগী। বাংলাদেশ থেকে মডেল বাছাই করতে ফেস অব বাংলাদেশ-২০১৯ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ক্রসওয়াক কমিউনিকেশন এবং কোরীয়-বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান কোরবান। ফেস অব বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক পর্বে আবেদন করেছিলেন ৫ হাজার প্রতিযোগী। সেখান ৩০ জন ছেলে ও ৩০ জন মেয়েকে বাছাই করা হয়। এরপর এক মাসের গ্রুমিং চলে। আজরা মাহমুদ গ্রুমিং অ্যান্ড কাস্টিং স্টুডিওর সহযোগিতায় যেখানে দেশসেরা ব্যক্তিরা মডেলদের নানা বিষয় শেখান। এরপর চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত হন ১০ জন ছেলে ও ১০ জন মেয়ে। গত ২৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে অনুষ্ঠিত এশিয়ান মডেল ফেস্টিভ্যালের জন্য নির্বাচিত হন পাঁচজন। তাদের মধ্যে আমি রানারআপ হই।

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রতিযোগিতার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

২২ মে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে রওনা দিই। নেমেই অন্য দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে গ্রুমিংয়ে অংশ নিই। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গ্রুমিং চলত। নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে প্রতি মডেলকে ১০ থেকে ১৫টি পর্ব পার করতে হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই ডিজাইনার শো ও স্কলার শো নামে দুটি আলাদা আয়োজন হয়। গত ৭ জুন সিউলের অলিম্পিক হলে শুরু হয় ফেস অব এশিয়ার গালা রাউন্ড। যেখানে শুরুতে ১০ জন ছেলে ও ১০ জন মেয়ে মডেল বাছাই করা হয়। যারা পান স্পন্সর প্রাইজবন্ড। বাংলাদেশের চার প্রতিযোগীর মধ্যে আমি উঠে আসি এই পর্বে। এরপর সেরা দশের নাম ঘোষণা করা হয় (৫ জন ছেলে, ৫ জন মেয়ে)। সেখানে নিজের নাম দেখে দারুণ খুশি হয়েছিলাম। তখনো নিজেকে সেরা ভাবতে পারিনি। যখন মঞ্চে ঘোষিত হয় ‘এশিয়ার সেরা পুরুষ মডেল বাংলাদেশের মেহেদি হাসান পলাশ। তখন তো নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। সবচেয়ে ভালো লেগেছে নিজের দেশকে বিশ্বের দরবারে সম্মানের সঙ্গে তুলে ধরতে পেরে।

মডেলিংয়ের ব্যাপারে পরিবারের সমর্থন কতটা পেয়েছেন?

আব্বুকে যেদিন বলেছিলাম আমি মডেলিং করতে চাই, তিনি রাজি ছিলেন না। তিনি চাইতেন, আমি সাব-ইন্সপেক্টর হই। অনেক বোঝানোর পর একদিন বলেন, যাও, দেখো, কিন্তু আমি এই পেশায় কোনো সাহায্য করতে পারব না। আরেকটা শর্ত, তোমাকে অনার্সের পর এসআই পদে পরীক্ষা দিতে হবে। নিজেকে প্রমাণের চেষ্টায় লেগে পড়লাম। ২০১৭ সালে জাতীয় জাদুঘরে একটা ফ্যাশন শোতে হাঁটার সুযোগ দেন মডেল আসিফ খান। এই শুরু। এরপর মেকআপশিল্পী বাপন রহমানের পরামর্শে নিজের একটা পোর্টফোলিও তৈরি করি। জিমে গিয়ে শরীর গঠনের দিকে মনযোগ দিই। এরপর মডেল ও কোরিওগ্রাফার আজরা মাহমুদের পরামর্শে নিজেকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলেছি। এরই মধ্যে একে একে দেশের নামকরা ডিজাইনারদের পোশাকে বড় বড় ফ্যাশন শোতে হেঁটেছি। ভবিষ্যতে আরও ভালো কাজ করতে চাই।