নোয়াখালী শহরের মাইজদী বাজারে কিশোর গ্যাং ‘মামা বাহিনী’র অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, জিম্মি করে, মাসিক টাকা আদায় এবং মাদক ব্যবসায় গ্যাংটি সক্রিয় থাকলেও নীরব ভূমিকা পালন করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নোয়াখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র রতন কুমার পাল জানান, গত বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী এবং ছোট ভাই সীমান্ত পাল মাইজদী ট্যাক্সি স্ট্যান্ড থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা রিজার্ভ করে চৌমুহনী যাওয়ার পথে মাইজদী বাজারে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য মুনিম, রায়হান, শাওন, সজীব ও সাব্বির পথরোধ করে তার স্ত্রীর স্বর্ণালংকার লুট করে। সীমান্ত পাল বাধা দিলে তাকে বেদম মারধর করা হয়।
প্যানেল মেয়র আরও জানান, এ কিশোর গ্যাংটি মাইজদী পেট্রলপাম্প থেকে পাসপোর্ট অফিস রাস্তার মাথা পর্যন্ত তাদের তৎপরতা চালিয়ে থাকে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাইজদী বাজারের ব্যবসায়ী এবং সাবেক পৌর কমিশনার বলেন, এ বাহিনী মামা বাহিনী নামে পরিচিত। তারা বরগুনার নয়ন বন্ড বাহিনী থেকেও ভয়ংকর। তাদের টার্গেট, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে কেউ বাইরে এলে, প্রবাসী বা ঢাকা কিংবা চট্টগ্রাম থেকে কেউ ট্যাক্সি ক্যাব নিয়ে এলে তাদের টাকা ও মালামাল ছিনতাই করা। এ ছাড়া, কোরবানির মৌসুমে অন্য জেলা থেকে আসা গরুর ব্যাপারী, প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের পরিবহন আটক করে টাকা আদায়, ছাত্রছাত্রীদের মেসে হানা দিয়ে চাঁদা আদায় করা, মালামাল নিয়ে যশোর বেনাপোল থেকে আসা পরিবহন ইত্যাদি। এ বাহিনী প্রবাসীদের আটক করে এবং মারধর করে বলে তার কাছে টাকা পাবে। এ গ্যাংয়ের সদস্যরা মাইজদী বাজার ছাড়াও প্রাইম হাসপাতালের সামনে, পাঁচ রাস্তার মোড়, বাঁধের হাটের রাস্তার মোড়ে (দত্তবাড়ির মোড়) গ্রুপে গ্রুপে অবস্থান নিয়ে অপারেশন চালায়। কখনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে তাদের ‘বড় ভাই’ পরিচয়ধারীরা গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগীরা জানান, এ ব্যাপারে পুলিশকে জানিয়ে আরও হেনস্তা হতে হয়। পৌর প্যানেল মেয়রের স্ত্রী ও ভাইয়ের ঘটনায় সুধারাম পুলিশ মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি নিয়েছে। পুলিশের টি এস আই লিটন দত্ত জানান, এ ব্যাপারে সিএনজিচালককে আটক করা হয়েছে।
সুধারাম থানার ওসি নবীর উদ্দিন খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কেউ মামলা করে না। তার পরও পুলিশ ঈদ মৌসুমে সতর্ক দৃষ্টি রাখবে। টহলের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। তিনি জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন এসব সন্ত্রাসীবে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে বলেন, ব্যাংক থেকে বেশি টাকা উত্তোলন করলে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাই।