বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পানির সংকটে

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মানুষ তীব্র পানি সংকটে জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি বিশ্বের পানির উৎসগুলো নিয়ে করা এক রিপোর্টে এমন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের (ডব্লিউআরআই) বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, পানি সংক্রান্ত ঝুঁকিতে অনেক দেশই ‘ড্রাই জিরো’তে পরিণত হতে পারে। ড্রাই জিরো বলতে পানি ফুরিয়ে যাওয়াকে বলা হচ্ছে।

দেশগুলোর মধ্যে কাতার, ইসরায়েল ও লেবাননকে শীর্ষ দেশ বলা হচ্ছে, যে দেশগুলো খুব দ্রুতই পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। এছাড়া বতসোয়ানার জোয়ানেং, গাবরোন ও আফগানিস্তানের বাদঘিসের পরিস্থিতিও ভালো নয়। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আরও উন্নত পরিকল্পনা, সঠিক তথ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছে ডব্লিউআরআই।

সংস্থাটির বৈশ্বিক নির্বাহী প্রধান বেটসি অট্টো বলেন, ‘পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বর্তমানে বৈশ্বিক পানি সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি। আমাদের জনসংখ্যা ও অর্থনীতি বাড়ছে। পাশাপাশি পানির চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, পানির অপচয় ও দূষণের কারণে হুমকির মুখে আমাদের পানির সরবরাহ ব্যবস্থা।’

বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশ উচ্চ পানি সংকটে ভুগছে। এই দেশগুলোর কৃষি, শিল্প ও বৃহৎ শহরগুলো বছরে ভূগর্ভস্থ পানির ৮০ শতাংশ ব্যবহার করছে। বর্ধিত পানির চাহিদার চাপে শহরগুলো আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হতে বাধ্য হচ্ছে। এই ১৭টি দেশের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো রয়েছে।  গত জুলাইয়ে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর চেন্নাইয়ের পানি ফুরিয়ে যায়। স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবিতে শহরটির পানিশূন্য লেক দৃশ্যমান হয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ভারতের সাবেক কর্মকর্তা শশী শেখর বলেন, ‘চেন্নাইয়ের পানি সংকট বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। কিন্তু ভারতের আরও অনেক অঞ্চল চেন্নাইয়ের মতো পানির সংকট মোকাবিলা করছে নিয়মিত।’ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো ও ক্যালিফোর্নিয়াতেও শুরু হয়েছে পানির সংকট। বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যই পানির সংকট মোকাবিলা করছে ইতিমধ্যেই। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ এলাকা খরা পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছে। ২০১১ সালে ক্যালিফোর্নিয়া খরার কবলে পড়ে, অথচ ওই অঞ্চলে জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়ছেই।