‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক রাতে নিহত ৪

তিন জেলায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে এক রাতে চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যশোরে আত্মরক্ষার্থে গুলির কথা বললেও শেরপুর ও বগুড়ায় দু’পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে অভিযানের কথা জানিয়েছে পুলিশ। শেরপুরে নিহত রুহুল আমীন রিপন (৩২) জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। যশোরে নিহত শিশির ঘোষকে (৩০) ১৮

মামলার আসামি বলছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, ধরে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

শেরপুর : পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, ‘সদর উপজেলার চরশেরপুর ইউনিয়নের ধোপাঘাট কড়ইতলা এলাকায় মাদক বেচাকেনা নিয়ে দু’দলের ঝামেলা হচ্ছে; এমন সংবাদ পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যবস্থা নেয়। পরে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। জেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ নিহত যুবকের নাম রুহুল আমীন রিপন জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে শেরপুর-জামালপুরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

রিপন সদর উপজেলার মীরগঞ্জ মহল্লার মুরগি ব্যবসায়ী কালু মিয়ার ছেলে ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক। পুলিশের দাবি, এ সময় গোয়েন্দা শাখার এএসআই আরিফুল হকসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়।

যশোর : অস্ত্র উদ্ধারে গেলে সহযোগী ও পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে পড়ে শিশির ঘোষ নামে এক যুবক নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছেন ওসি। নিহত যুবকের বাবা ও কাকা অভিযোগ করেছেন, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) শিশিরকে উঠিয়ে নিয়ে হত্যা করেছে। তারা ডিবির ওসি মারুফ হোসেন ও এএসআই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। নিহত শিশির ঘোষ যশোর শহরের ষষ্টিতলাপাড়ার নিত্য ঘোষের ছেলে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বোমাসহ আটকের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদে হেফাজতে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে বলে শিশির জানায়। গতকাল ভোরে অস্ত্র উদ্ধারে গেলে ওঁৎপেতে থাকা শিশিরের সহযোগীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর গুলি চালায়। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে অন্য সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ হয় শিশির। যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শহিদুল্লাহ জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে শিশিরের মরদেহ বহনকারী মাইক্রোবাসসহ যশোর প্রেস ক্লাবে আসেন তার স্বজনরা। এ সময় তার কাকা সুনীল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিশিরকে সরাসরি হত্যা করা হয়েছে, এটা ক্রসফায়ার নয়। সে ডেসপারেট ছিল, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না। ডিবি পুলিশের এএসআই আলমগীর হোসেন শিশিরকে ধরে নিয়ে যায়। সকালে শুনি তাকে মেরে ফেলা হয়েছে।’ জানতে চাইলে এএসআই আলমগীর হোসেন বলেন, শিশিরের আটকের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। শিশিরের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা রয়েছে জানিয়ে যশোর ডিবির ওসি মারুফ হোসেন বলেন, ‘আমরা অপারেশন করি না। লোকাল থানাকে সহায়তা করি। শিশিরের কাকার অভিযোগটি মনগড়া-মিথ্যা।’

বগুড়া : অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ‘মঙ্গলবার রাতে জেলার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর বাজারের পাশে গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ যায়। সেখানে গুরুতর আহত অবস্থায় দুই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানায়, নিহত ধনেশ ওরফে সুকুমার (৩৮) গাইবান্ধার সদর উপজেলার কাঁচদহ গ্রামের মন্টু সরকারের ছেলে ও আফজাল হোসেন (৫৫) নাটোরের সিংড়া উপজেলার বামিহাল গ্রামের রজব আলীর ছেলে। শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির আফজালের নামে বিভিন্ন থানায় ২০টি এবং ধনেশের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানান।