ছেলেকে চোর সন্দেহে আটকের পর বাবাকে পিটিয়ে হত্যা

কেরানীগঞ্জে ছেলেকে চোর সন্দেহে আটক করে মীমাংসা হওয়ার পরেও একদল দুর্বৃত্ত ওই ছেলে বাবাকে ডেকে এনে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. বাদল মিয়া (৫৫)।

শুক্রবার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা গুলজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত মোবারক হোসেনের ছেলে নিহত বাদল মিয়ার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অন্তর্গত আমিরাবাগ এলাকায় বসবাস করতেন।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, দুপুর ১২ টার দিকে বাদল মিয়ার ছোট ছেলে সজল ৬ টি ছাগল হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে জিনজিরা বাজার হাঁটে নিয়ে যাওয়ার সময় গুলজারবাক এলাকার মুরব্বি সাচ্চু মিয়া চোর সন্দেহে ছাগলসহ সজলকে আটক করে। সজল ছাগলগুলো তাদের খামারের বলে জানায়, কিন্তু সাচ্চু মিয়া সহ উপস্থিত লোকজন বিশ্বাস না করে সজলকে মারধর করে। পরে সজল ফোন করে তার বাবা ও বড় ভাইকে ঘটনাস্থলে আসতে বলে। সজলের বড় ভাই ও পিতা ঘটনা স্থলে আসলে সাচ্চু মিয়ার সঙ্গে সজলের বাবা বাদল মিয়ার তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে সাচ্চু মিয়াকে চর মারে বাদল মিয়া। পরে এলাকার মুরব্বিরা উপস্থিত হয়ে বিষয়টি ঘটনাস্থলেই মীমাংসা করে দেয় ।

এর পরে দুপুর ৩ টার দিকে সাচ্চু মিয়ার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে বাদামগাছ তলা এলাকায় বাদল মিয়ার ছাগলের খামারে গিয়ে বাদল মিয়াকে ধরে নিয়ে আসে । বাদল মিয়াকে গুলজার এলাকায় কাসেম হাজীর বাড়িতে এনে আটকিয়ে বেদম মারধর করা হয়। এতে বাদল মিয়া গুরুতর আহত হয়ে পরে। এদিকে খবর পেয়ে বাদলের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় সাজেদা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। সাজেদা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা বাদলকে মৃত ঘোষণা করে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি শাকের মোহাম্মদ যোবায়ের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। দোষীদের দ্রুত খুঁজে বের করে আমরা সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করব।