মাদারীপুরে স্থায়ী ও অস্থায়ী দুই ধরনের গরুর হাট নামমাত্র মূল্যে ইজারা দিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগ উঠেছে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রভাবশালীদের ঈদে আর্থিক সুবিধা দিতে এমন সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হাটের কার্যক্রম চললেও সরকারিভাবে ইজারা মূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি, এমনকি সরকারি কোষাগারে ইজারার টাকা জমা হয়নি অস্থায়ী গরুর হাটে, অথচ প্রশাসনের মৌখিক অনুমোদন নিয়ে চলছে এসব গরুর হাট।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে ও সরেজমিনে জানা গেছে, মাদারীপুর সদর উপজেলার হবিগঞ্জ হাটটি উপজেলা প্রশাসন থেকে মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বার্ষিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এখানে গরুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি নেই। এমনকি এবার উপজেলা প্রশাসন থেকে অস্থায়ী গরুর হাট বসানোর জন্য কোনো আলাদা ইজারা নেওয়া হয়নি। গত ছয় বছরেরও বেশি এ হাটে গরু-ছাগল কেনাবেচা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানায়, এখানে বিপুলসংখ্যক গরু বিক্রি হয়। প্রতিবছরই এখানে গরু-ছাগল বিক্রির হাসিল আদায় হয়েছে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি। ইজারাদার ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা এ গরুর হাটের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছে অতীতে।
এভাবে প্রতিটি অস্থায়ী হাটে প্রতিদিনের হাসিল আদায় হয় এক থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত। হাটের হাসিল আদায় অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে টাকা জমা হয় না।
সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুদ্দিন গিয়াসের কাছে গত বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অস্থায়ী হাটগুলোর ইজারামূল্য এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট এলাকার তহসিলদারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইজারার টাকা আদায় করা হবে। তবে ইজারার অনুমোদন না নিয়ে এবং রাজস্ব পরিশোধ না করে হাট চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার শেষ কার্যদিবস পর্যন্ত ইজারা মূল্য নির্ধারণ ও আদায় করা সম্ভব হয়নি। মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায় ইজারা দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জনগণ যাতে একটু কম টাকা হাসিল দিয়ে গরু কিনতে পারে, তাই ইজারা মূল্য বেশি নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় না। ঈদের পর অফিস শুরু হলে ইজারার টাকা আদায় করা হবে।